ক্রমাগত ভারী বর্ষণ। তার পাশাপাশি ডিভিসির জল ছাড়ার মতো অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ। ফলত বন্যাবিধবস্ত দক্ষিণবঙ্গের বহু জেলা। উত্তরের জেলাও জলমগ্ন। এই পরিস্থিতিতে দুর্গতদের পাশে
দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। গতকাল, অর্থাৎ বুধবার নবান্ন বন্যাকবলিত জেলাগুলিতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা বৈঠক হয়। দফতরের প্রধান সচিব ওক্কার সিং মীনা, কৃষি অধিকর্তা-সহ রাজ্যের সিনিয়র অফিসার ও জেলার কৃষি বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে দুয়ারে ত্রাণ, রবিশস্য চাষে সহায়তায় বীজ ও সার সরবরাহ নিয়ে পর্যালোচনা হয়। সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যাতে সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করাই রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “১২টি জেলা বন্যায় কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিঘার পর বিঘা জমির ফসল ভেসে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের লক্ষ্য, একজন কৃষকও যেন সরকারি সুবিধা প্রদান থেকে বাদ না পড়েন।”
পাশাপাশি, তিনি এদিন ঘোষণা করেন, শীঘই রাজ্য সরকারের তরফে দুয়ারে ত্রাণ কর্মসূচি নেওয়া হবে। সেখানে যদি কেউ বাদ পড়েন, তাঁরা উপযুক্ত প্রমাণ-সহ আবেদন করতে পারবেন। এই মর্মে প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, সাড়ে ৫ লক্ষ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সেই জমিতে বিকল্প হিসেবে কলাই, মুগ, সরষে-সহ অন্যান্য তৈলবীজ চাষে সহায়তা করবে রাজ্য। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ প্রদান করা হবে। এছাড়াও আগামী রবি মরশুমে আলু চাষের সময় সার সরবরাহ সুনিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন কৃষিমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সার নিয়ে যেন কোনও অভিযোগ আর না শোনা যায়। এর আগে বাংলায় এই ম্যান-মেড বন্যায় কৃষকদের শস্যবিমা আওতায় আনার দিন বেঁধে দেন তিনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিকে সেই নির্দেশ পাঠানো হয়। সেইমতো প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। এদিন বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও পর্যালোচনা হয়। জেলার পাঠানো রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হয়েছে।




