রবিবার শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। দোরগোড়ায় দুর্গাপুজো। জোরকদম চলছে তোড়জোড়। আজ জেনে নেওয়া যাক বাংলার আরও একটি সাবেকি বাড়ির দুর্গোৎসবের কথা। চকদীঘির জমিদার বাড়িতে পুজো শুরু হয় প্রতিপদের দিন থেকেই৷ এখানে পুজোর আয়োজন করে সিংহরায় পরিবার। মহালয়ার ভোরে পিতৃপক্ষের অবসানের সময় থেকেই সমস্ত ধর্মীয় আচার মেনেই পুজো শুরু হয় চকদীঘির জমিদার বাড়িতে। একদা এই পরিবারের পুজোয় অংশ নিতেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর৷ বহুবার তিনি সিংহরায় পরিবারের পুজোয় উপস্থিত থেকেছেন৷ পারিবারিক নানা দলিল, পুঁথি ঘিরে এই ইতিহাস জানতে পারা যায়৷ এখানে তাঁর জন্য একটি ঘরও নির্দিষ্ট করা ছিল৷ এছাড়াও জমিদার বাড়ি লাগোয়া একটি পুকুর, তার বাঁধানো ঘাট বিদ্যাসাগরের প্রিয় ছিল। সেই জায়গায় ছিল দুটি ঘরও ছিল। যা আজ ধ্বংসপ্রায়। সেখানে বসে পড়াশোনা ও লেখালেখির কাজ করতেন বিদ্যাসাগর।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই পরিবারের মহিলা সদস্যরা আগে যখন দেবীর কাছে পুষ্পাঞ্জলি দিতে আসতেন, তখন গ্রামের সাধারণ মানুষ তাঁদের মুখ দেখতে পেতেন না৷ মন্দিরের ভিতরে পর্দাঘেরা জায়গায় বসে তারা অঞ্জলি দিতেন৷ একমাত্র পুরোহিত মহিলাদের মুখ দেখতে পেতেন৷ এখনও সেই প্রথাই চলে আসেছে সিংহরায় পরিবারের৷ এই পরিবারের পুজোর সমস্ত আয়োজন আজও সেই পুরানো রীতি মেনেই বাড়ির পুরুষরা করে আসছেন৷ এখনও কোনও মহিলা পুজোর কোনও কাজে অংশ নেন না৷ বলিদানের সময়ে দেবীকে সন্দেশ দর্শন করানো হয়৷ এখনও জমিদার বাড়ির পুজো ঘিরে এই চকদীঘি এলাকা ছাড়াও আশেপাশের গ্রামের মানুষের উৎসাহ-উন্মাদনা চোখে পড়ার মতন৷ এখন চকদীঘি সিংহরায় পরিবারের দুর্গা দালানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি৷ একদা এই বাড়িতে এক সময় সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে নিয়মিত। এখানে থেকে তাঁর চলচ্চিত্রের শ্যুটিং করেছেন বিশ্যবরেণ্য চিত্রপরিচালক সত্যজিৎ রায়।




