২০১১ সালে বিধানসভা ভোটে রাজ্যে পরিবর্তনের পিছনে সিঙ্গুর আন্দোলনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সে বছর সিঙ্গুরের প্রায় সর্বত্রই ফুটেছিল জোড়াফুল। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল গোবিন্দপুর। সেখানে এখনও সমবায় সমিতি পরিচালিত হয় বামেদের দ্বারা। এবার তাদের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগে সরব হল তৃণমূল।
মঙ্গলবার বামফ্রন্ট পরিচালিত সিঙ্গুরের গোবিন্দপুর সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সিঙ্গুরের নসিবপুরে সমবায়ে প্রধান কার্য্যালয়ের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করলেন তৃণমূল নেতা কর্মীরা। এমনকি সমবায় অফিসের গেট খুলতে এসেও প্রবল বিক্ষোভের মুখে ফিরে গেলেন সমবায় কর্মীরা।
সমবায়ে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি, বেআইনি ভাবে কর্মী নিয়োগ, কিষাণ কার্ড বিলি করার ক্ষেত্রে স্বজনপোষন, সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কিষাণ ক্রেডিট কার্ড না করা, টেন্ডারের ক্ষেত্রে আর্থিক দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সকালে সমবায়ের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শামিল হন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। এবং অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করতে হবে।
এদিকে তৃণমূলের তোলা অভিযোগে কার্যত মান্যতা দিয়েছেন সমবায়ের নির্বাচিত বোর্ডের বাম সদস্য শ্যামল সরকার। সমবায়ের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূলের আন্দোলন ন্যায্য। বেনিয়ম ভাবেই চলছে এই সমবায়। কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হচ্ছে বলে খোদ বাম সদস্যই অভিযোগ করেন।
শ্যামলবাবুর কথায়, ‘ঠিক কাজই করছে তৃণমূল আন্দোলন করে। টাকা লেনদেনের ব্যাপারটা বলতে পারছি না। তবে বেআইনি ভাবে কর্মী নিয়োগ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড দেওয়া, নতুন সদস্য করার ক্ষেত্রে খুব অনীহা দেখাচ্ছে। রাতারাতি আমাদেরই বামপন্থী দলের বোর্ড সদস্যরা তিন দিনের মধ্যে একজনকে নিয়োগ করা হল!’
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সমবায়টি বামেদের দখলে রয়েছে এই সমবায়টি। দল তথা বোর্ডের সদস্যদের আচরণে ক্ষুব্ধ ওই সমবায় সমিতির নির্বাচিত এক সদস্য নিজে বলেন, ‘অনেক আশা করে মানুষ বামেদের উপর আস্থা রেখেছিল। এখন যা চলছে, আগামিদিনে কী হবে জানি না। আমি নিজে এ নিয়ে প্রতিবাদ করেছি। বেনিয়মের অভিযোগে দরখাস্তও দিয়েছি। তবে আমার মনে হয়, সভাপতি, সম্পাদক এবং সমবায়ের ম্যানেজার এতে যুক্ত।’