নিউজিল্যান্ডকে তাদের ঘরের মাঠেই টি২০ সিরিজে প্রথমবার হোয়াইট ওয়াশ করেছে ভারতীয় দল। তারপর আজ থেকে হ্যামিল্টনে শুরু হয়েছে ওয়ানডে সিরিজ। আর সেই সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দুরন্ত শতরান করলেন শ্রেয়স আইয়ার। আর তাঁর শতরানে ভর করেই প্রাথমিক ধাক্কা সামলিয়ে বড় রান করল ভারত। শ্রেয়স আইয়ারের ১০৩। লোকেশ রাহুলের অপরাজিত ৮৮। বিরাট কোহলির ৫১। ত্রয়ীর দাপটে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে ভারত চার উইকেট হারিয়ে তুলল ৩৪৭ রান।
টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় নিউজিল্যান্ড। চোটের কারণে রোহিত বা শিখর না থাকায় এদিন ওপেন করতে একেবারে নতুন জুটি পৃথ্বী শ ও মায়াঙ্ক অগ্রওয়ালকে পাঠায় ভারতীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। শুরুটা বেশ ভালই করেছিলেন দুজনে। বিশেষ করে নির্বাসন কাটিয়ে উঠে সিনিয়র দলের হয়ে প্রথমবার খেলতে নেমে কেমন খেলেন পৃথ্বী, তা দেখার জন্য উন্মুখ ছিলেন সকলেই। কিন্তু ২১ বলে ২০ রান করেন গ্র্যান্ডহোমের বলে ক্যাচ আউট হয়ে যান তিনি।
এরপরের ওভারেই আউট হয়ে যান মায়াঙ্কও (৩২)। পরপর দুই উইকেট হারিয়ে বেশ কিছুটা চাপে পরে যায় ভারত। আর সেখান থেকেই ইনিংস গঠনের কাজটা শুরু করেন কোহলি। তাঁকে সঙ্গত দেন শ্রেয়স আইয়ার। দুজনে মিলে ১০২ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। ৬০ বলে নিজের কেরিয়ারের ৫৮তম ওয়ানডে অর্ধ শতরান করেন কোহলি। যদিও এরপরেই সোধির দুরন্ত গুগলি বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়ে যান ভারত অধিনায়ক (৫১)।
কোহলি আউট হয়ে গেলেও শ্রেয়স আইয়ার ও লোকেশ রাহুল রানের গতি পড়তে দেননি। চার ছয় সহযোগে চতুর্থ উইকেটে বড় রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন দুজনে। টি২০ সিরিজের ফর্ম ধরে রেখে অর্ধ শতরান করেন লোকেশ রাহুল। তবে সবাইকে ছাপিয়ে যান শ্রেয়স। গত বছরের শেষ থেকে ভারতের চার নম্বর পজিশনের সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন এই তরুণ তারকা। এদিনও ধৈর্য ধরে প্রথমে অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও পরে লোকেশ রাহুলের সঙ্গে বড় রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। ৪৩তম ওভারে স্যান্টনারকে মিড অফে এক রানের জন্য ঠেলে পূর্ণ করেন নিজের কেরিয়ারের প্রথম শতরান। সেঞ্চুরি করার পথে মারেন ১১টি চার ও একটি বিশাল ছক্কা।
তবে শতরান করার পরেই একটু গা ছাড়া মনোভাব চলে আসে আইয়ারের। চালিয়ে খেলতে গিয়ে সাউদির শিকার হন। ১০৭ বলে ১০৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। একেবারে ইনিংস শেষের দিকে শ্রেয়স আইয়ার আউট হয়ে যাওয়ায় রান তোলার গতিতে কিছুটা বাধা আসলেও চেষ্টা চালিয়ে যান রাহুল। শতরান অল্পের জন্য করতে পারলেন না তিনি। শেষমেশ ৫০ ওভারে ৩৪৭/৪ রান তোলে ভারত। অপরাজিত থাকেন লোকেশ রাহুল (৮৮) ও কেদার যাদব (২৬)।
ভারতীয় দল এই ম্যাচে প্রথম এগারোর বাইরে রেখেছে মণীশ পাণ্ডে, ঋষভ পন্থ, নবদীপ সাইনি, যুজবেন্দ্র চহাল ও শিবম দুবেকে। এর মধ্যে মণীশকে বসিয়ে ছয়ে কেদার যাদবকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ভারতের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৫-০ জেতার নেপথ্যে অবদান ছিল মণীশের। তাই তাঁকে বসানোর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না ক্রিকেটপ্রেমীরা।