জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বিল নিয়ে চলছে টানাপোড়ন বহু দিন ধরেই। এই বিল দেশবাসীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে সরব হন বিরোধীরা। জোর করে এই আইন লাঘু করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার এমন অভিযোগে উত্তাল দেশ। সপ্তদশ লোকসভাতে অন্যতম ইস্যুই ছিল এই এনআরসি বিল। যা শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতে ছিল সেটাই এখন সারা দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন কেন্দ্র এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেল এইদিনের সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথায়।
বুধবার রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘দেশের প্রতি প্রান্ত থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করবেই এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে সরকার।’ পাশাপাশি গোটা দেশেই এনআরসি চালু করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই ফের একবার এই বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠল।
প্রসঙ্গত, অসমে এনআরসি চালু নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে একটি প্রশ্নে বাংলার নির্দল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে চেয়েছিলেন, অসমের পরে NRC প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গের পালা আসবে কি না? স্পষ্ট জবাব না দিলেও এই প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যান্দ রাই জানিয়েছিলেন, ‘নাগরিকত্ব আইনের ধারায় বর্তমানে এনআরসি অসমে চালু রয়েছে।’
কিন্তু আজকের অমিত শাহের মন্তব্যের পর নির্দল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কাই সত্যি হিসেবে উঠে আসছে। এইবার যে বাংলাও টার্গেট হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। বাংলার ওপরে এনআরসি চাপিয়ে দেওয়া হবে বলে মনে করছেন অনেকে।