‘বাংলার প্রতি এমন আচরণ করা হচ্ছে, এই বাংলাই বিজেপিকে যথাযোগ্য শিক্ষা দেবে৷ বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসই আগামী দিনে সব আঞ্চলিক দলকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লীতে সরকার গড়বে৷’ মঙ্গলবার আরামবাগে দলীয় প্রার্থী অপরূপা পোদ্দারের সমর্থনে হওয়া সভা থেকেই এ কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে এই ভরা গ্রীষ্মে সাত দফা ভোট নিয়েও গতকাল প্রথম নির্বাচনী জনসভায় আপত্তি প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সভার শুরুতেই তিনি বলেন, ‘দেশে এত দফায় ভোট এই প্রথম৷ বিজেপি নিজের সুবিধার জন্য এতগুলো দিনে ভোট করছে৷ গরমে মানুষের কষ্টের কথা ভাবেনি৷’
গতকাল তৃতীয় দফা ভোটে মালদহের দু’টি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রবেশের প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর মন্তব্য, ‘আমার কাছে অভিযোগ এসেছে, ইংরেজবাজারের ১৬৬,১৬৭ নং বুথের ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকে বিজেপির হয়ে ভোট করাচ্ছে৷ একই অভিযোগ পেয়েছি ইটাহার থেকেও৷ কেন এমনটা হবে? বাহিনীর কাজ নিরাপত্তা বজায় রাখা৷ বিজেপির হয়ে কাজ করা নয়৷ আমরা এই বিষয়টি কমিশনে জানিয়েছি৷’ সেইসঙ্গে জনসভায় উপস্থিত মানুষজনকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কেউ এভাবে ভোট করাতে এলে, তাঁদের কথা শুনবেন না৷ আপনার ভোট আপনার সিদ্ধান্ত৷ নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দেবেন৷’ প্রার্থী অপরূপা পোদ্দারের সমর্থনে মমতার আর্জি, ‘অপরূপা ভাল মেয়ে৷ অনেক কাজ করেছে, লড়াই করেছে৷ ওকে আপনারা সবাই মিলে আবার নির্বাচিত করুন৷’
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী মরশুমে এরাজ্যের পুলিশ প্রশাসনে একাধিক রদবদল হয়েছে৷ সোমবারই ৩ থানার আইসি পদমর্যাদার অফিসার-সহ ৭ জনকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে৷ এর নেপথ্যে বিজেপি-র চক্রান্তের অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে তোপ দেগেছেন মমতা৷ তাঁর প্রশ্ন, উত্তরপ্রদেশ, আসামের মতো যেসব জায়গায় বিজেপির সরকার, সেখান থেকে কেন পুলিশ অফিসারদের বদলি হচ্ছে না? বেছে বেছে কেন বাংলার পুলিশ অফিসারদের বদলি? মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট যুক্তি, রাজ্যের কাজকর্ম রাজ্য পুলিশ দেখবে৷ নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে কোনও আপত্তি নেই৷ কিন্তু তারা এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে এবং নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করে কাজ করছে৷ তাতেই তাঁর আপত্তি৷
এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন মমতা। তিনি বলেন, ‘বাংলার প্রতি এমন আচরণ করা হচ্ছে, এই বাংলাই বিজেপিকে যথাযোগ্য শিক্ষা দেবে৷ বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসই আগামী দিনে সব আঞ্চলিক দলকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লীতে সরকার গড়বে৷’ এবং সেই লক্ষ্যেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তৃণমূল সুপ্রিমোর কড়া বার্তা, ‘মানুষকে ভালবেসে কাজ করতে হবে৷ ভুলত্রুটি হলে সংশোধন করে ফের কাজে মন দিতে হবে৷ সংশোধন করা জরুরি৷ জনগণের কাজ করতে হলে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে থাকতে হবে৷’
সোমবারই রাজ্যে একাধিক সভা করতে এসে রিগিং নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ৷ গতকালের সভা থেকে তার জবাবে মমতা বললেন, ‘রিগিং নিয়ে আমি ভয় পাই না৷ আপনারা ভয় পান৷ ত্রিপুরায় কী করেছেন? ওখানে তো ভোট হয়নি, রিগিং হয়েছে৷ রিগিং করেই জিতেছেন৷’ এরপরই মালদা দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরির স্বামী আর কে চৌধুরিকে এ রাজ্যের নির্বাচনে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা সংক্রান্ত কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ‘স্ত্রী ভোটে লড়ছেন, আর স্বামী নির্বাচনের দায়িত্বে৷এটা কীভাবে হয়? আমরা এ নিয়ে কমিশনে আপত্তি জানিয়েছিলাম বলেই বদল হয়েছে৷’