মহারাষ্ট্রে নাটকীয় পটপরিবর্তনের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করলেন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার ও শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে৷ শরদ পাওয়ার বলেন, অজিতের সিদ্ধান্ত পার্টি লাইনের বিরোধী৷ তিনি শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন৷ দল তাঁর আচরণে ক্ষুব্ধ৷ তিনি আরও বলেন, “কোনও এনসিপি নেতা ও কর্মী এনসিপি-বিজেপি সরকারকে সমর্থন করবে না৷ রাজ্যপাল তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলেছেন৷ কিন্তু তারা সেটা পারবে না৷ এরপর আমরা ৩ দল সরকার গড়ব৷ সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে”৷ পাওয়ার আরও বলেছেন, “একজন সত্যিকারের এনসিপি নেতা কখনই বিজেপির হাত ধরবে না।”
শোনা গেছে, বিকেল ৪টের বৈঠকে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে৷ এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তার কোনও ইঙ্গিত দেননি পাওয়ার৷ এদিন যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এনসিপি বিধায়ক রাজেন্দ্র সিনগানে বলেন, অজিত পাওয়ার আমাকে ডেকেছিলেন কিছু আলোচনা করার জন্য৷ এরপর কয়েক জন বিধায়কের সঙ্গে আমাকেও রাজভবনে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কোনও কিছু বোঝার আগে অজিত শপথ নেন৷ আমি পাওয়ার সাহেবের কাছে ছুটে আসি৷ তাঁকে বলি, আমি শরদ পাওয়ারের সঙ্গে আছি, এনসিপির সঙ্গে আছি৷
শনিবার অজিত পাওয়ার উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর এনসিপির পদক্ষেপ নিয়ে জনমানসে উঁকি দিচ্ছিল নানান প্রশ্ন। সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতেই এদিন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে বসেন শরদ পাওয়ার। সেখানে শুরুতেই তিনি বলেন, ‘একজন সত্যিকারের এনসিপি নেতা কখনও বিজেপির হাত ধরবে না।’ পাশাপাশি তিনি আরও জানান, দলের ১০ থেকে ১১ জন বিধায়ককে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন অজিত পাওয়ার। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে এদিন বেশ কয়েকজন বিধায়ককেও সাংবাদিক বৈঠকে ডেকে আনেন পাওয়ার।
অজিতের শপথ নেওয়ার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শরদ পাওয়ার টুইটে বলেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের। কাল রাত পর্যন্ত বিন্দুবিসর্গও জানতেন না পাওয়ার। বর্ষীয়াণ এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার টুইটারে লিখেছেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। এটা অজিত পাওয়ারের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এনসিপির নয়। আমরা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি না।’ একই কথা বলছেন এনসিপি নেতা জয়ন্ত পাটিল, জীতেন্দ্র আওহাদ, নবাব মালিক।