কলকাতা: রঙের উৎসবে মেতেছিল কলকাতা৷ তবে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছিল কড়া পুলিশি নজরদারি। দোলের দিন সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কলকাতা পুলিশের তরফে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ায় বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দোল উপলক্ষে প্রায় চার হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। শহরজুড়ে মোট ৩৯৮টি পিকেট বসানো হয়। খান্না মোড়, পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট, শ্যামবাজার-সহ ৮৫টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিশেষ পিকেট ছিল। গুরুত্বপূর্ণ পিকেটগুলিতে ছ’জন করে পুলিশকর্মী এবং অন্যান্য পিকেটে তিনজন করে দায়িত্বে ছিলেন। বন্দর এলাকায় সবচেয়ে বেশি নজরদারি রাখা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শহরের ১০টি ডিভিশনে একযোগে অভিযান চালানো হয়। নিয়ম ভাঙার অভিযোগে মোট ৩৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লালবাজারের তথ্য অনুযায়ী, মত্ত অবস্থায় অভব্য আচরণ, পথচলতি মানুষকে বিরক্ত করা ও অসামাজিক কাজকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৫ লিটার মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৬২টি টহলদারি ভ্যান ও পিসিআর ভ্যান দিনভর শহরে টহল দিয়েছে। বাইক বাহিনীও বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি চালায়। আবাসিক এলাকা, পার্ক ও গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন স্থানে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়। দোলের দিনে মত্ত গাড়িচালকদের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নাকা চেকিং চালানো হয় এবং ব্রেথ অ্যানালাইজার দিয়ে পরীক্ষা করা হয় চালকদের। ফলে বড় কোনও সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শুধু স্থলপথ নয়, জলপথেও ছিল নজরদারি। শহরের আটটি গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গার ঘাটে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। রিভার ট্রাফিক পুলিশ স্পিড বোট নিয়ে পশ্চিম বন্দর থানা থেকে হুগলির কোন্নগর পর্যন্ত টহল দেয়। জোয়ার-ভাঁটার সময় মাইকিং করে সতর্ক করা হয় সাধারণ মানুষকে।




