কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর খোলা চিঠির তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা প্রতিক্রিয়া। মোদী চিঠিতে রাজ্যবাসীর কাছে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ ও আগামী প্রজন্মের পথ নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, “আর মাত্র কয়েক মাস, তারপরেই নির্ধারিত হবে পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য। আমার স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ চরম বঞ্চনার শিকার।”
মোদীর চিঠি প্রকাশের একদিনের মধ্যে তৃণমূল তাদের এক্স হ্যান্ডেলে পাল্টা খোলা চিঠি প্রকাশ করে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলার উন্নয়নের জন্য প্রাপ্য কেন্দ্রীয় তহবিল প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে। আবাস যোজনা, গ্রাম সড়ক যোজনা ও জল জীবন মিশনের তহবিলও দেওয়া হয়নি। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই নীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে এবং বাংলার স্বনির্ভর উন্নয়নের পথকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
চিঠিতে মোদীর দলের বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতি অবজ্ঞার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য হলো, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে হালকাভাবে ‘বঙ্কিম দা’ বলা, স্বামী বিবেকানন্দকে ‘অজ্ঞ বামপন্থী প্রোডাক্ট’ বলা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপহাস এবং জনগণমনকে বিদ্রুপের মাধ্যমে দেখানো। এছাড়া বাঙালিদের ‘ঘুষপেটিয়া’ বলা এবং মাতৃভাষার ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার অভিযোগও চিঠিতে অন্তর্ভুক্ত।
তৃণমূলের খোলা চিঠি রাজ্য ও কেন্দ্রের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, ভোটের সময় মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ এবং ভোটের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতে পারে। চিঠিটি বাংলার মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও আচরণের উপর প্রশ্ন তুলেছে।
এই খোলা চিঠি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। তৃণমূল ও বিজেপির অবস্থান, নীতি ও কৌশল নতুনভাবে যাচাইয়ের মুখে এসেছে। রাজ্যবাসী উৎসুকভাবে এই দ্বন্দ্ব পর্যবেক্ষণ করছেন, যা আগামী নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।




