কলকাতা: ভাষাদিবসের অনুষ্ঠানে দেশপ্রিয় পার্কে দেখা গেল এক রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই মঞ্চে বসে ছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে সম্মানিত করা হলে তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে উত্তরীয় ও স্মারক তুলে দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সম্মান কেবল সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি নয় বরং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিতও হতে পারে। কোচ-রাজবংশী সম্প্রদায়ের দাবির মুখ হিসেবে পরিচিত অনন্ত মহারাজ একসময় আলাদা রাজ্যের দাবিতে সরব ছিলেন এবং সেই সূত্রে ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থনে রাজ্যসভায় যান। তবে পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সেই দাবি নাকচ করলে তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে।
মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নিজের ভাষা ও পরিচয়ের গর্বের কথা তুলে ধরেন এবং ঐতিহাসিক সেনানায়ক চিলা রায়ের রচিত কবিতা রাজবংশী ভাষায় আবৃত্তি করেন। এতে তাঁর আঞ্চলিক পরিচয়ের বার্তা স্পষ্ট হয়। লোকসভা ভোটের পর মুখ্যমন্ত্রী যখন কোচবিহার সফরে গিয়ে তাঁর বাড়িতে যান, তখন থেকেই দুই নেতার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এবার প্রকাশ্য মঞ্চে সম্মাননা সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে৷




