নয়াদিল্লি: এসআইআর যাচাই নিয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এক নজিরবিহীন নির্দেশ জারি করেছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে এবার নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জুডিশিয়াল অফিসারদের।
কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ বা প্রাক্তন বিচারকদের ‘জুডিশিয়াল অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ করবেন। এই অফিসাররা সমস্ত এসআইআর নথি খতিয়ে দেখবেন এবং যাচাই শেষে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন এসআইআর তালিকা প্রকাশিত হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তালিকাও প্রকাশ করা যেতে পারে।
নথি যাচাই চলাকালীন জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সুপার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, এই অফিসারদের নির্দেশই চূড়ান্ত এবং তাদের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ হিসেবে মানা হবে। রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানিয়েছেন, “ম্যান পাওয়ার সীমিত। জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ এবং পরিকাঠামোতে চাপ পড়তে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।” তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছেন, অফিসার দিতে না পারলে তা অবিলম্বে কমিশনকে জানাতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে থাকবেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর তারা সমস্ত নথি যাচাই করবেন।
মার্চের প্রথম সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের সরাসরি নজরদারিতে নথি যাচাইয়ের এই পদক্ষেপ রাজ্য সরকার ও কমিশনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের মধ্যেও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।




