হুগলি: আচমকাই মৃত্যু বরণ করেছেন বছর ষাটের ঝালমুড়ি বিক্রেতা শেখ আনোয়ার৷ হুগলির ডানকুনি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তিনি৷ পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়া চলাকালীন চারবার শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। বারবার নথি জমা দেওয়ার চাপ এবং অতিরিক্ত উদ্বেগ বৃদ্ধকে মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে দুর্বল করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
প্রতিবেশীদের বক্তব্য, রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় শেখ সইফুদ্দিন তাঁর দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে বের হয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরে তাঁকে পাশের চায়ের দোকানে বসে চা খেতে দেখা যায়। চায়ের দোকানদার শেখ সামসুদ্দিন বলেন, ‘‘দোকান গুটিয়ে আমার কাছে এল। চা খেল। নাতিদের জন্য চিপস কিনল। জিজ্ঞাসা করলাম, ‘শুনানিতে গিয়েছিলে?’ বলল, ‘হ্যাঁ।’ চারবার ডাক পড়ার চিন্তাই ওর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল।’’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে চতুর্থ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। পাঁচজনের স্বাক্ষরের মাধ্যমে নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও বৃদ্ধ বুঝতে পারছিলেন কোথায় ভুল হচ্ছে। পরের সকালে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তৃণমূল অভিযোগ করেছে, কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এলাকাবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, ‘‘চারবার ডাক পড়লে একজন বৃদ্ধ মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন।’’




