ঝাড়গ্রাম: মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর গ্রামে পৌঁছে নাবালিকা ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি খোঁজ নেওয়া শুরু করল ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার পুলিশ। সদ্য মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অনেক অভিভাবক মেয়েদের চুপিচুপি বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রাখেন। এই প্রবণতা রোধ এবং ছাত্রীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়েছে।
১১ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে বাঁশপাহাড়ি থানার ওসি শুভেন্দু রানা নেতৃত্বে ৬টি দলে ভাগ হয়ে পুলিশ ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে ছাত্রী এবং পরিবারের সদস্যরা কিছুটা চমকে গেলেও পরে পুলিশ তাদের উদ্দেশ্য বোঝালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরিবার এবং ছাত্রীদের জানানো হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সে কোনো বিয়ে আইনত বেআইনি।
বেলপাহাড়ি থানার আওতাধীন নেগুড়িয়া, ভীমার্জূন, বাঁশপাহাড়ি, পচাপানি, দোলদোলি, ছুরিমারা, তামাজুড়ি, গিদিঘাটি এবং পাটাঘর গ্রামে মোট ৯২ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছাত্রীদের বাড়ি গিয়ে তাদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন করা হয়েছে যাতে ১৮ বছরের নিচে বিয়ে না হয়।
ওসি শুভেন্দু রানা বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ছাত্রী প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী। তাদের পরিবার প্রায়শই অল্প বয়সে বিয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে। আমরা চাই মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো এবং ১৮ বছরের কম বয়সে কোনো বিয়ে না হওয়া নিশ্চিত করা।” ছাত্রী মল্লিকা মুড়া বলেন, “পুলিশ হঠাৎ গ্রামে এসে আমাদের খোঁজ নিল। প্রথমে ভয় পেলাম, পরে বুঝলাম তাঁরা আমাদের সুরক্ষার জন্য এসেছেন। আমি আরও পড়াশোনা করতে চাই।”




