কলকাতা: রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া স্বনির্ভর বাংলা শিবিরে প্রথম দিনেই ব্যাপক ভিড় দেখা গেল। নতুন চালু হওয়া ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে আবেদন করতে সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলায় শিবিরের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ে। বিশেষ করে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতীদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। অধিকাংশ আবেদনকারীই এসেছেন যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দিতে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ৭৬৯টি শিবিরে প্রথম দিনেই মোট ৬ লক্ষ ২৯ হাজার মানুষের উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে শুধুমাত্র যুবসাথী প্রকল্পে। অন্যদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩১ হাজার এবং খেতমজুরদের সহায়তা প্রকল্পে প্রায় ৩৬ হাজার আবেদন পড়েছে। অর্থাৎ মোট আবেদনের প্রায় ৯০ শতাংশই যুবসাথীকে ঘিরে, যা প্রকল্পটির জনপ্রিয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
চলতি মাসের বাজেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তরফে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়। মাধ্যমিক পাশ করা ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবক-যুবতীরা আগামী এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে রবিবার থেকে এবং চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আবেদন করতে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, মাধ্যমিক পরীক্ষার নথি, ব্যাংক পাসবইয়ের কপি এবং দু’কপি ছবি জমা দিতে হচ্ছে।
শিবিরগুলিতে সরকারি আধিকারিক, জেলাশাসক এবং জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাঁরা আবেদনকারীদের ফর্ম পূরণে সাহায্য করছেন এবং জমা পড়া আবেদন দ্রুত অনলাইনে আপলোড করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ গেছে নবান্ন থেকে। কিছু শিবিরে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই বিপুল সাড়া প্রমাণ করছে যে নতুন প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।




