ঝাড়গ্রাম ও খড়গপুর: রাত নামলেই দুষ্কৃতীরা গ্রামে ঢুকছে—এই গুজব ছড়িয়ে পড়তেই একাধিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভয়ে অনেক গ্রামেই বাসিন্দারা দল বেঁধে রাত পাহারা দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়েছে ঝাড়গ্রাম ও খড়গপুর মহকুমা পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্য, এমন কোনও ঘটনার সত্যতা মেলেনি৷ গুজব থেকেই এই অযথা ভীতি তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুজবের কারণে অনেক জায়গায় অপরিচিত কাউকে দেখলেই সন্দেহ করা হচ্ছে। এতে নিরীহ মানুষ হেনস্থার শিকার হতে পারেন। তাই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামে পুলিশ আধিকারিকরা রাতেই পৌঁছে গ্রামবাসীদের সচেতন করছেন। মাইকিং করে জানানো হচ্ছে কোনও সন্দেহজনক ঘটনা দেখলে নিজে ব্যবস্থা না নিয়ে দ্রুত থানায় খবর দিন।
সম্প্রতি খড়গপুর গ্রামীণ এলাকার এক গ্রামে রাতে কাজে বেরোনো এক ব্যক্তিকে সন্দেহ করে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এই ঘটনার পর প্রশাসন আরও সতর্ক হয়ে টহল বাড়িয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করেছে। অন্যদিকে কেশিয়াড়ি অঞ্চলের একটি গ্রামে “রাতে বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ” লেখা পোস্টার নজরে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, অনেক সময় আত্মীয়স্বজন বা পরিচিত মানুষ হঠাৎ রাতে গ্রামে আসতেই পারেন। সবাই তাঁদের চিনবেন এমন নয়। তাই ভুল সন্দেহের বশে কাউকে আক্রমণ করা আইনত অপরাধ।
প্রশাসনের দাবি, লাগাতার প্রচার ও সচেতনতার ফলে বহু এলাকায় আতঙ্ক কমেছে এবং গ্রামবাসীরাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আবারও অনুরোধ করা হয়েছে গুজবে কান দেবেন না, যাচাই না করা খবর ছড়াবেন না, এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। এতে যেমন অযথা ভীতি কমবে, তেমনই আইনশৃঙ্খলাও বজায় থাকবে।




