কলকাতা: রাজবংশী সমাজের মহান পথপ্রদর্শক পঞ্চানন বর্মার জন্মদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি। এই মনীষীর জন্মদিনে তাঁকে এবার শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজবংশীদের জন্য রাজ্য সরকারের কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরে উন্নয়নের কথাও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে শ্রদ্ধার্ঘ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ”রাজবংশী সমাজের মহান পথপ্রদর্শক, রায়সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার জন্মবার্ষিকীতে এই প্রবাদপ্রতিম মনীষীকে জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম। রাজবংশী সংস্কৃতির বিকাশ এবং ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করতে আমাদের সরকার দায়বদ্ধ। তাঁর সম্মানে আমরা অনেকগুলি পদক্ষেপ করেছি।”
উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি লেখেন, ”আমরা কোচবিহারে পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি এবং তাঁর জন্মস্থান খলিসামারির পুণ্যভূমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালু করা হয়েছে। তাঁর বাসভবন সংস্কার করে আমরা ‘পঞ্চানন বর্মা সংগ্রহশালা ও গবেষণাকেন্দ্র’ নামে একটি মিউজিয়াম গড়ে তুলেছি এবং সেখানে তাঁর একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। তাঁর জন্মতিথিকে আমরা রাজ্যে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছি।”
মমতা আরও লেখেন, “রাজবংশী ভাইবোনদের সামগ্রিক উন্নতির লক্ষে আমাদের সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কোচবিহারের ঐতিহ্যশালী ”নারায়ণী সেনা’র স্মরণে রাজ্য পুলিশে বিশেষ ‘নারায়ণী’ ব্যাটেলিয়ন গঠন করা হয়েছে।
পাশাপাশি, এক্স হ্যান্ডেলে তিনি আরও জানান, “রাজবংশী ভাষাকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কামতাপুরী, সাঁওতালী, কুরুখ, কুড়মালী, নেপালী, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবী ও তেলুগু ভাষাকেও আমরা সরকারি মর্যাদা দিয়েছি। সাদরি ভাষার মানোন্নয়নেও আমাদের বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। রাজবংশী সমাজের কৃষ্টি রক্ষায় আমরা রাজবংশী ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, রাজবংশী কালচারাল একাডেমি, রাজবংশী ভাষা একাডেমি এবং কামতাপুরী ভাষা একাডেমি গঠন করেছি। প্রায় ২০০টি রাজবংশী স্কুলকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকারের সমস্ত কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে মমতা আরও লেখেন, “কোচ-রাজবংশী বীরত্বের প্রতীক বীর চিলারায়ের স্মরণে কোচবিহারের বাবুরহাটে তাঁর একটি ১৫ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। তাঁর জন্মদিনে উত্তরবঙ্গে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে আমাদের সরকার। কোচ-কামতাপুরী-রাজবংশী ঐতিহ্যের গুরুত্ব বিচার করে সমগ্র কোচবিহার শহরকে ‘হেরিটেজ সিটি’ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।”




