কলকাতা: কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন নতুন বাজেটে সেচের জলের উপর আরোপিত কর সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রেখেছে।
প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভায় অনুমোদন মিললেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং তখন থেকে কৃষকদের সেচের জল ব্যবহারের জন্য কোনও কর দিতে হবে না। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ চাষের খরচ কমিয়ে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সেচ প্রকল্পের জল ব্যবহারের জন্য কৃষকদের নির্দিষ্ট চার্জ দিতে হয়। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে এই ব্যয় অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রশাসনের মতে, জলকর সম্পূর্ণ মকুব হলে কৃষকদের মোট উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং তারা আরও বেশি জমিতে চাষ করতে উৎসাহিত হবেন। এতে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি করে দাম স্থিতিশীল রাখতেও সহায়তা করতে পারে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়েছিল যে নির্দিষ্ট সময়ে ব্লকভিত্তিক শিবিরে গিয়ে জলকর মকুবের সুবিধা নেওয়া যাবে। তবে প্রশাসনের একাংশ স্পষ্ট করেছে, ওই শিবিরগুলি মূলত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার আবেদন গ্রহণের জন্য আয়োজন করা হয়। জলকর মকুবের সঙ্গে এই শিবিরগুলির সরাসরি সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ কৃষকদের আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন পড়বে না, সরকারি নির্দেশিকা জারি হলেই সুবিধা কার্যকর হবে।
অর্থ দফতরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বাজেটে প্রস্তাব ঘোষণার পর তা বাস্তবায়নের জন্য বিধানসভায় অনুমোদন অপরিহার্য। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নতুন অর্থবর্ষ শুরু হয় এপ্রিল মাসে, তাই অনুমোদন পেলে সেই সময় থেকেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা পাঠানো হবে এবং বাস্তবায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সার, বীজ, কীটনাশক, জ্বালানি ও শ্রমিক মজুরির খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেচের জলের কর তুলে দিলে কৃষকের হাতে বাড়তি অর্থ থাকবে, যা তারা উন্নত বীজ, আধুনিক যন্ত্রপাতি বা অতিরিক্ত জমিতে চাষের কাজে ব্যয় করতে পারবেন। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়ার পাশাপাশি কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হতে পারে।




