শিলিগুড়ি: বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত। বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বিএসএফ জওয়ান এবং টহলদারি চলছে জোরকদমে। নিরাপত্তা মহলের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে যে কোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
প্রায় ১৭ মাস অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকার পর বাংলাদেশে এই নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট শুধু দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ সম্পর্ককে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
যদিও পরবর্তীতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্য আংশিকভাবে চালু হয়, তবুও আগের মতো গতি ফেরেনি আমদানি-রফতানিতে। সীমান্তবর্তী ব্যবসায়ীদের মতে, স্থায়ী সরকার ক্ষমতায় এলে বাণিজ্য আবার স্বাভাবিক হবে। এক ব্যবসায়ীর কথায়, স্থিতিশীল প্রশাসন থাকলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও শক্তিশালী হয়।
সীমান্ত বন্ধ থাকায় আপাতত থমকে গিয়েছে পণ্য পরিবহণ। সাধারণ দিনে যেখানে ১০০-২০০ ট্রাক পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে যায়, সেখানে এখন চেকপোস্ট প্রায় ফাঁকা। প্রভাব পড়েছে সীমান্ত লাগোয়া ছোট ব্যবসাতেও। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বাংলাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে ৩০০টির মধ্যে ২৯৯টি আসনে। প্রশাসনের আশা, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে দ্রুত সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে এবং বাণিজ্য ও পারাপার স্বাভাবিক হবে।




