পুরুলিয়া: জঙ্গলমহল এলাকায় দাঁতালের আক্রমণে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বন দফতর। ঘটনার পর থেকেই জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিশেষ টহলদারি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে অতিরিক্ত গাড়ির ব্যবস্থা করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে প্রশাসন ও বন দফতর।
সোমবার বাঘমুন্ডির মার্চা গ্রামের বাসিন্দা গুরুচরণ সিং মুড়া দলছুট একটি দাঁতালের আক্রমণে মারা যান। খবর পেয়েই বন দফতরের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং এলাকাবাসীদের সতর্ক করেন। বর্তমানে অযোধ্যা পাহাড়ের গোবরিয়া জঙ্গলে থাকা ১২টি হাতির একটি দলের উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে, যাতে আগাম বিপদের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা যায়।
নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে কর্মীর সংখ্যা ১২১ থেকে বাড়িয়ে ১৫৩ করা হয়েছে। আগে যেখানে ২৯টি জঙ্গলপথ পর্যবেক্ষণে ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ৩৪টি করা হয়েছে। বন দফতরের মতে, এই বাড়তি নজরদারির ফলে হাতির গতিবিধি দ্রুত জানা যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহণ ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে। আগে ৪৩টি গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ৪৭টি করা হয়েছে। গাড়ির সংখ্যাও ১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৯ করা হয়েছে। জেলা বন আধিকারিক অঞ্জন গুহ জানিয়েছেন, পরীক্ষার সময় কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন মৃত ব্যক্তির পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার সরকারি ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বন দফতরের দ্রুত পদক্ষেপ, বাড়তি নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগে এলাকায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।




