মধ্যপ্রদেশ: মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। স্থানীয় একটি মাতা মন্দিরের ছাদের একাংশ আচমকা ভেঙে পড়ে৷ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে তিন শিশুকন্যা। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন শিশু ও এক দম্পতি। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন গ্রামের এক দম্পতির উদ্যোগে মন্দিরে প্রসাদ বিতরণ ও শিশুদের খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়েছিল। সেই উপলক্ষে গ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু শিশু মন্দিরে জড়ো হয়। শিশুরা মন্দিরে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাদের একটি বড় পাথরের স্ল্যাব হঠাৎ খুলে নীচে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা মন্দির চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, স্ল্যাবটি ভেঙে পড়তেই কয়েক জন শিশু তার নীচে চাপা পড়ে যায়। চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষজন ছুটে আসেন। গ্রামবাসীরাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের বাইরে বের করেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় সকলকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তিন শিশুকন্যাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এই দুর্ঘটনার পর মন্দির সংস্কার কাজ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, মন্দিরে বেশ কিছুদিন ধরেই মেরামতির কাজ চলছিল। কিন্তু ছাদের স্ল্যাব দুর্বল হয়ে পড়লেও তা ঠিকভাবে মেরামত করা হয়নি। নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করেই সেখানে শিশুদের সমাগম হতে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লালু শর্মা জানান, সংস্কারের কাজ চললেও মন্দির পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়নি। প্রসাদ বিতরণের সময়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের গাফিলতির ফলেই এত বড় প্রাণহানি ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছেন। মন্দির চত্বর ঘিরে রাখা হয়েছে এবং কাঠামোগত দুর্বলতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংস্কার কাজে যুক্ত ঠিকাদার ও মন্দির পরিচালন কমিটির ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।




