পুরুলিয়া: এবারের গ্রীষ্ম তীব্র দাবদাহের পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। প্রখর গরম শুরু হওয়ার আগে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ‘সামার ওয়াটার সাপ্লাই প্ল্যান’(Summer Water Supply Plan)হাতে নিয়েছে, যাতে পানীয় জলের সংকট মোকাবিলা করা যায়।
জেলাশাসকের নির্দেশে ব্লক ও শহর ভিত্তিক জল সরবরাহের অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। অকেজো নলকূপ মেরামত, নতুন টিউবওয়েল স্থাপন এবং ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ব্লক দফতর এবং পঞ্চায়েত সমিতি তালিকা তৈরি করছে।(Summer Water Supply Plan)শহরে পুরপ্রধান এবং মহকুমাশাসকের তত্ত্বাবধানে একই কাজ চলছে।
পুরুলিয়া শহর, বাঘমুন্ডি ব্লক, ঝালদা ও রঘুনাথপুর শিল্প অঞ্চলে পানীয় জলের সংকট সবচেয়ে তীব্র। শহরের প্রায় ৪০০–৫০০ স্ট্যান্ড পোস্টের মধ্যে অনেকের কল নেই, যার ফলে জল অপচয় হচ্ছে। পুরসভা এই স্ট্যান্ড পোস্টগুলো ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরসভার প্রশাসক উৎপলকুমার ঘোষ এবং আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিশেষজ্ঞ কালীপ্রসন্ন গঙ্গোপাধ্যায় শহরের পাইপলাইন, ভালভ এবং জল উৎস চিহ্নিত করে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করছেন। এতে পাইপলাইনের মেরামত, জল উৎস পুনঃস্থাপন এবং জল অপচয় রোধের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গ্রামীণ এলাকায় সমস্ত ওয়াটার লিফটিং স্টেশন এবং টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। বিডিও ও মহকুমাশাসকদের নিয়মিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর সমস্ত নলকূপ সচল রাখতে এবং রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করতে বাধ্য।
পুরুলিয়ার মাটির কারণে প্রাকৃতিকভাবে ভূগর্ভস্থ জল পুনর্চার্জ কঠিন। তাই ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জলের সরবরাহ অপরিহার্য। জেলা প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ৩০টি ট্যাঙ্কার প্রস্তুত রেখেছে। জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বলেন, “প্রখর গ্রীষ্মে মানুষ যেন পানীয় জলের অভাবে না ভোগে, তার জন্য আমরা আগে থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছি। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”




