সিকিম: ভোররাত জুড়ে একের পর এক ভূমিকম্পে(Earthquake) কেঁপে উঠল সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট ১২ বার কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সেসমিলজি। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি হয় বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৯ মিনিট নাগাদ। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫। সিকিমের গালসিং অঞ্চলে এর উৎপত্তি এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
প্রথম কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ফের কেঁপে ওঠে গ্যাংটক ও সংলগ্ন এলাকা। এরপর রাতভর এবং শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সিকিমের বিভিন্ন অংশে একাধিক আফটারশক নথিভুক্ত হয়েছে। সেসমিলজি দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, পরবর্তী কম্পনগুলির তীব্রতা প্রথমটির তুলনায় কম ছিল, তবে বারবার কেঁপে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
গ্যাংটক ছাড়াও মঙ্গন, নামচি, গালসিং সহ সিকিমের একাধিক এলাকায় ভূমিকম্পের(Earthquake) কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। অনেক বাসিন্দা গভীর রাতে ঘুম ভেঙে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে জরুরি পরিষেবাগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সিকিমের পাশাপাশি উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টা ৩২ মিনিট নাগাদ উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলায় ৩.৭ রিখটার স্কেলের ভূমিকম্প নথিভুক্ত হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর জেলাতেও ৩.৪ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। যদিও এই কম্পনগুলি ক্ষতিকর ছিল না, তবুও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়।
এছাড়াও ভারতের সীমান্তের বাইরে চিনের তিব্বত ও জিনজিয়াং অঞ্চলেও ভূমিকম্পের কম্পন লক্ষ্য করা গিয়েছে। ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিকিম ও সংলগ্ন অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় এই ধরনের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। একটি মূল ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক হওয়াকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং ভূমিকম্প সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।




