বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুর ব্লকের ডিহর গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন ষাঁড়েশ্বর মন্দির(Sharsheshwar Temple) দীর্ঘ ৬ বছর সংস্কারের কারণে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ছিল। মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, এবার মন্দিরের শুদ্ধিকরণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ভক্তরা নিয়মিত পুজো করতে পারবেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মন্দির শুদ্ধিকরণ কার্যক্রম শুরু হবে। বিষ্ণুপুর শহর ও আশেপাশের গ্রাম থেকে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার মহিলা কলস হাতে নদীর জল নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণ শুদ্ধ করবেন। একযোগে ভূমিশুদ্ধিকরণ ও মহাযজ্ঞের আয়োজন হবে। অনুষ্ঠানটি বেনারস থেকে আগত প্রায় ২০ ব্রাহ্মণের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে।
মন্দিরের ভিতরে দীর্ঘ সময় ধরে শুধু পুরোহিতদের দ্বারা নিত্যপুজো চলছিল। সংস্কারের কারণে সাধারণ দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারেননি। ২০২০ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া মন্দির সংস্কারে হাত দেয়। দক্ষ কারিগরের মাধ্যমে পাথরের কাজ শুরু হলেও, বিভিন্ন কারণে কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। ২০২১ সালে পুনরায় কাজ শুরু হয়। পুরনো পাথরগুলো খুলে পালিশ করে নতুনভাবে বসানো হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে সংস্কার সম্পূর্ণ হয়েছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৩৪৬ সালে বিষ্ণুপুরের ৩৭তম মল্লরাজা পৃথ্বী মল্ল ল্যাটেরাইট পাথর দিয়ে মন্দিরটি(Sharsheshwar Temple) নির্মাণ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কানানদীর জলের কারণে মন্দিরের ভিত্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং ভূমিকম্পের ধাক্কায় দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্দির প্রাঙ্গণে মহা মৃত্যুঞ্জয় যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ৪০ হাজার ভক্তের জন্য খিচুড়ি প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি শৈলেশ্বর মন্দির থেকে বাবা ভৈরবকে ষাঁড়েশ্বর মন্দিরে আনা হবে।
গত ছয় বছর ধরে গাজন উৎসব শৈলেশ্বর মন্দিরে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এবার থেকে চৈত্র মাসের গাজন উৎসব ফের ষাঁড়েশ্বর মন্দিরে আয়োজন করা হবে। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, মন্দিরটি স্থানীয় মানুষ এবং দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্র। ষাঁড়েশ্বর মন্দিরের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠান ভক্তদের মধ্যে আনন্দ ও আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। সংস্কারের পর মন্দির আবারও ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বসহ ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত হবে।




