রাজস্থান: রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড, যা প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হয়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় আশিস ও তার স্ত্রী অঞ্জু হাঁটতে বের হন। হঠাৎ একটি গাড়ি তাদের ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মারা যান আশিস, এবং অঞ্জু অচেতন হয়ে পড়েন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অঞ্জু সুস্থ হয়ে ওঠেন।
প্রাথমিকভাবে অঞ্জু জানান, হঠাৎ একটি গাড়ি তাদের ধাক্কা দিয়েছে এবং তার সোনার হার চুরি হয়েছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্টে অসংগতি ধরা পড়ে। মৃতদেহে শ্বাসরোধ এবং আঘাতের চিহ্ন থাকলেও অঞ্জুর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পুলিশ তৎক্ষণাৎ সন্দেহ করে এবং তদন্তে নেমে ঘটনা ধীরে ধীরে বদলে যায়।
পরে তদন্তে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যে অঞ্জু তার বাপের বাড়ি থেকে প্রেমিক সঞ্জুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তারা একসঙ্গে আশিসকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। ৩০ জানুয়ারি রাতে অঞ্জু ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে নির্জন রাস্তায় হাঁটতে নিয়ে যান। তখনই সঞ্জু ও তার দুই সহযোগী রকি ও বাদল আশিসের উপর হামলা চালান। তাঁকে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
ঘটনাকে প্রথমে গাড়ি দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। অঞ্জু তার মোবাইল ফোন ও কানের দুল অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। এরপর জ্ঞান হারানোর ভান করে রাস্তার পাশে পড়ে থাকেন। কিন্তু পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অঞ্জুর বয়ান অসঙ্গতিপূর্ণ প্রমাণিত হয় এবং হত্যাকাণ্ডের আসল চিত্র উদঘাটিত হয়।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ড হঠাৎ দাম্পত্য কলহের কারণে হয়নি, বরং এটি পূর্বপরিকল্পিত। পুলিশ অঞ্জু, সঞ্জু এবং তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। ফরেনসিক প্রমাণ ও সাক্ষীর বয়ান দিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।




