কলকাতা: সামনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে কেন্দ্রীয় বাজেটকে ঘিরে রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা ছিল যথেষ্ট। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে বাংলার জন্য বিশেষ কোনও নতুন প্রকল্প বা উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ(Budgetary Allocations) না থাকায় হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা মেট্রোকে ঘিরে কেন্দ্রের ‘অবহেলা’ আবারও সামনে এসেছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার প্রাপ্য দিচ্ছে না, তবুও রাজ্যের উন্নয়ন থামবে না।
কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থায় মেট্রোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ একাধিক মেট্রো প্রকল্পে বরাদ্দ ক্রমশ কমানো হচ্ছে। দমদম বিমানবন্দর থেকে নিউ গড়িয়া পর্যন্ত রাজারহাট মেট্রো লাইনের ক্ষেত্রেই তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ১,৫৫০ কোটি টাকা। পরের বছর ২০২৫-২৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭২০.৭২ কোটি টাকা। আর ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বরাদ্দ আরও কমে হয়েছে মাত্র ৭০৫.৫০ কোটি টাকা।(Budgetary Allocations) বরাদ্দ কমলেও রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে তারা বদ্ধপরিকর।
অন্যদিকে, জোকা–বিবিডি বাগ–মাঝেরহাট মেট্রো লাইনের বরাদ্দে সামান্য ওঠানামা দেখা গেছে।
২০২৪-২৫ সালে এই লাইনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৮৫০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয় ৯১৪ কোটি টাকা। তবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বরাদ্দ সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, বরাদ্দ স্থিতিশীল না হলেও এই প্রকল্পের গতি কোনওভাবেই থামানো হবে না।
ইস্ট-ওয়েস্ট গ্রিন লাইন মেট্রো প্রকল্পের ক্ষেত্রে বরাদ্দে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।(Union Budget)
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে যেখানে বরাদ্দ ছিল ৫০০ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৬-২৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা। যদিও এই বৃদ্ধি খুব একটা উল্লেখযোগ্য নয়, তবুও রাজ্য সরকার জানিয়েছে, শহরের পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ আরও মজবুত করতে এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার মানুষের প্রয়োজন, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নগর পরিবহণ ব্যবস্থাকে বারবার অবহেলা করা হচ্ছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই কাজ করছে। সীমিত বরাদ্দের মধ্যেও মেট্রো প্রকল্পগুলি সময়মতো সম্পন্ন করা, নগর নাগরিকদের যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি করা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন বজায় রাখাই রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার প্রাপ্তি কম হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও, তৃণমূল সরকারের দৃঢ় নেতৃত্ব ও ‘মানুষের পাশে থাকার’ রাজনীতি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথেষ্ট বলেই দাবি রাজ্য শাসক দলের। মেট্রো হোক বা নগর উন্নয়ন কেন্দ্রের অবহেলা সত্ত্বেও বাংলার উন্নয়নের চাকা থামবে না, এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।




