নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটের সংশোধিত ব্যয়ের পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক খাতে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। বাজেটে জনকল্যাণের(Public Welfare Projects) নামে বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে সেই অর্থের বড় অংশ খরচ হয়নি। সরকারি নথিই দেখাচ্ছে, ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবায়নের ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রকল্পের(Public Welfare Projects) অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশোধিত ব্যয় প্রাথমিক বরাদ্দের অনেক নীচে রয়েছে। কর্মসংস্থান, পানীয় জল, আবাসন ও কৃষি এই চারটি মৌলিক ক্ষেত্রেই একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা ছাড়া খুব কম প্রকল্পেই পূর্ণ ব্যয়ের চিত্র মিলেছে।
গ্রামীণ কর্মসংস্থানের প্রশ্নে কেন্দ্রের নীতিগত অবস্থান নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে।
মনরেগার জায়গায় আনা নতুন প্রকল্পে সর্বজনীন কাজের অধিকার দুর্বল হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাজ বণ্টনের ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে থাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় রাজ্যগুলির প্রতি বৈষম্যের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জল জীবন মিশন প্রকল্পেও ব্যয়ের ঘাটতি বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই প্রকল্প শুরু হলেও সংশোধিত হিসাবে দেখা যাচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ব্যয় অনেক কম। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমবর্ধমান পানীয় জলের সংকট এই ব্যর্থতাকেই সামনে আনছে।
আবাসন প্রকল্পগুলিতেও হাজার হাজার কোটি টাকা অব্যবহৃত থেকে গেছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার শহর ও গ্রামীণ উভয় ক্ষেত্রেই বরাদ্দ ও বাস্তব ব্যয়ের ফারাক স্পষ্ট। পাশাপাশি পিএম-কিষান প্রকল্পে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনও অতিরিক্ত সহায়তা না থাকায় কৃষকদের হতাশা বাড়ছে।




