সিঙ্গুর: দীর্ঘদিন ধরে শিল্প বিতর্ক ও আন্দোলনের কেন্দ্রে থাকা সিঙ্গুরে এখন ছবিটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। একসময় যে জমিগুলি অধিগ্রহণ হয়ে পড়ে ছিল, সেগুলিতেই এখন নিয়মিত চাষ হচ্ছে। মাঠজুড়ে ধান, আলু, সর্ষে, বাদাম ও নানান সবজির ফলনে নতুন করে গতি পেয়েছে সিঙ্গুরের গ্রামীণ জীবন।
তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে শিল্প স্থাপনের জন্য সিঙ্গুরের বহু উর্বর কৃষিজমি অধিগ্রহণ করা হয়। কৃষকরা তখন শিল্পের বিরুদ্ধে ছিলেন না। তাঁদের বক্তব্য ছিল, উর্বর দো-ফসলি ও তিন-ফসলি জমি বাদ দিয়ে শিল্প হোক। কিন্তু সেই দাবি গুরুত্ব পায়নি। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।(Mamata Banerjee) সিঙ্গুর আন্দোলন রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।
রাজ্যে সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) সিঙ্গুরের জমি ফেরানোর উদ্যোগ নেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে চাষিরা একে একে তাঁদের জমি ফেরত পান। ২০১৬ সালে গোপালনগর এলাকায় সর্ষে চাষের সূচনার মধ্য দিয়ে জমিতে ফের কাজ শুরু হয়। কয়েক মাসের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্ষে ফুলে ভরে ওঠে মাঠ।
বর্তমানে সিঙ্গুরের গোপালনগর, খাসেরভেড়ি, বেরাভেড়ি, বাজেমেলিয়া, সিংহেরভেড়ি-সহ বিভিন্ন গ্রামে ফেরত পাওয়া জমিতে ধারাবাহিকভাবে চাষ চলছে। ধান, আলু, সর্ষে, বাদাম, তিল ও মরশুমি সবজি কৃষিকাজই এখন বহু পরিবারের প্রধান অবলম্বন। স্থানীয় কৃষক সুশান্ত বাগুই বলেন, “আমাদের জমি ফেরত পাওয়াটাই ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়। এখন নিজের জমিতে চাষ করে সংসার চালাতে পারছি।”
কৃষি জমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত পলাশ ঘোষ জানান, অধিগ্রহণ হওয়া জমির ৮০ শতাংশেরও বেশি অংশ বর্তমানে চাষের আওতায় রয়েছে। যে জমিগুলি এখনও পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না, সেগুলিকেও চাষযোগ্য করে তোলার কাজ চলছে। এই উদ্যোগে বিধায়ক ও মন্ত্রী বেচারাম মান্না সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, “২০১৬ সাল থেকেই সিঙ্গুরে নিয়মিত চাষ হচ্ছে। মোট জমির প্রায় ১৫ শতাংশ কারখানা সংলগ্ন হওয়ায় সেখানে চাষ হয় না। বাকি জমিতে নানা ধরনের ফসল উৎপাদন হচ্ছে।”




