মেদিনীপুর: সংখ্যাটা শুধু বড় নয়, তাৎপর্যও অনেক গভীর। তৃতীয় মেদিনীপুর আঞ্চলিক সৃষ্টিশ্রী মেলা(Srishti Shree Mela) এবছর বেচাকেনার অঙ্কে এমন সাফল্য ছুঁয়েছে, যা জেলার হস্তশিল্প ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করল। জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবছর মেলায় মোট বেচাকেনা হয়েছে ১৮ কোটি ৫১ লক্ষ টাকারও বেশি। যেখানে শুরুতে বিক্রির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১০ কোটি টাকা, সেখানে প্রায় দ্বিগুণ বিক্রি হওয়ায় মেলাটি নজিরবিহীন সাফল্যের তকমা পেয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, সৃষ্টিশ্রী মেলার(Srishti Shree Mela) বিক্রির গ্রাফ গত কয়েক বছর ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৪ সালে যেখানে মোট বেচাকেনা ছিল আড়াই কোটি টাকার কাছাকাছি, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকায়। চলতি বছরে সেই ধারাবাহিক বৃদ্ধিকে ছাপিয়ে এক লাফে ১৮ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে গেল মেলা। প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও পণ্যের মানের ওপর জোর দেওয়াই এই সাফল্যের অন্যতম কারণ।
গত ১৯ জানুয়ারি মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টিশ্রী মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া জানান, এবছর মেলার বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ১০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মেলা শুরু হতেই যে হারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে, তাতে লক্ষ্য ছাপিয়ে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল বলেই মনে করছেন অনেকেই।
১৯ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ১০ দিন ধরে চলা এই মেলায় পশ্চিম মেদিনীপুর সহ রাজ্যের মোট ১২টি জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা অংশ নেন। নিজেদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প ও হস্তবস্ত্র নিয়ে তাঁরা মেলায় স্টল বসান। পাশাপাশি কেরল, রাজস্থান, হরিয়ানা, কাশ্মীর ও তামিলনাড়ুর শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করেন, ফলে মেলার পরিসর আরও বিস্তৃত হয়।
এবছর মেলায় মোট ২২০টি স্টল বসে। মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী পটশিল্প, মাদুর, পাটজাত দ্রব্য, বাঁশের সামগ্রী, হাতে বোনা শাড়ি, গয়না ও নানান হস্তশিল্পজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। উদ্যোক্তাদের মতে, বিশেষ করে স্থানীয় শিল্পীদের স্টলগুলিতে প্রতিদিন সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য।
মেলার খাবারের স্টলগুলিও কম জনপ্রিয় ছিল না। স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি ভিনরাজ্যের স্বাদের টানে প্রতিদিনই প্রচুর মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার দর্শনার্থী মেলায় এসেছেন। প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দু’কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।




