শিলিগুড়ি: এসআইআর(SIR)-এর কাজ নিয়ে চাপের মুখে পড়ছেন বিএলওরা। এ নিয়ে বারবার অভিযোগ সামনে এসেছে৷ এবার এসআইআর-এর কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে বিএলও-র মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। জানা যাচ্ছে, সেভকের করোনেশন সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মঘাতী’ হয়েছেন বিএলও! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়িতে। ঘটনার জেরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে ফের সরব হয়েছে তৃণমূল।
শিলিগুড়ির ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মনগরের বাসিন্দা শ্রবণকুমার কাহার। পেশাগতভাবে শিলিগুড়ি হিন্দি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক দেশবন্ধু পাড়ার ৪৭ নম্বর পার্টের বিএলও ছিলেন। শ্রবণের সংসারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও বাবা-মা। এছাড়াও রয়েছেন আট ভাই।
জানা গিয়েছে, বুধবার বাসে করে বিকেল নাগাদ সেবকের করোনেশন ব্রিজ এলাকায় পৌঁছন। ব্রিজের উপর অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরিও করেছিলেন তিনি। এরপর ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দেন তিস্তায়! ঘটনা দেখে দ্রুত পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মংপং থানার পুলিশ। ব্রিজের নিচ থেকেই মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
অভিযোগ, এসআইআরে(SIR) প্রবল কাজের চাপ বাড়ছিল তাঁর। অতিরিক্ত চাপ আসছিল কাজের! সেইসব কারণে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন তিনি! এমনই দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারে কান্নার রোল উঠেছে। এই খবর পেয়ে হাসপাতালে যান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, কাউন্সিলর সঞ্জয় পাঠক, দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিব্রুওয়াল।
১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় পাঠক বলেন, “ওর জন্ম এখানেই। প্রায় ৮০ থেকে ৯০ বছর ধরে বসবাস ওদের পরিবারের। মাঝে দেখা হলেই এসআইআরের চাপের কথা জানাত। কারও নাম বাদ গেলে ওর উপর চাপ বাড়ত। ওকে কৈফিয়ত দিতে হত। মাঝে এই চাপের জন্য আত্মহত্যার কথাও জানিয়েছে৷”
মেয়র গৌতম দেব বলেন, “এসআইআরের চাপ। পরবর্তী কাজে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললাম। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী-সহ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অফিসে জানিয়েছি। এইভাবে এত মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।”




