সুন্দরবন: প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই সুন্দরবনের দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জীবন কেটে যায়। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে ভেঙে পড়ে কাঁচাবাড়ি, বিপন্ন হয় পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা। সেই অনিশ্চিত জীবনে এবার স্থায়িত্ব ও সুরক্ষার বার্তা নিয়ে এল রাজ্য সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প।(Banglar Bari Scheme) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সুন্দরবনের সাগর ব্লকের রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মনসাদ্বীপ খাসমহাল গ্রামে শুরু হতে চলেছে পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ।
বাংলার বাড়ি পাওয়ার খবরে গোটা গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। সন্ধ্যা নামতেই বাড়ি বাড়ি জ্বলে ওঠে আলো, ঢোলের তালে তালে আনন্দ প্রকাশ করেন গ্রামবাসীরা। হাসি-আড্ডা, মিষ্টিমুখ আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার সাফল্য উদযাপন করেন সকলে। নিজেদের পাকা বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে—এই আনন্দই যেন এক সুতোয় বেঁধে দেয় পুরো গ্রামকে।
এই উপলক্ষে গ্রামে ক্লাস্টার-মোডে ভিতপুজোর আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি প্রীতিভোজের ব্যবস্থাও ছিল। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গৃহনির্মাণ সম্পন্ন করতেই এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাগর ব্লকের বিডিও কানাইয়াকুমার রাও। তিনি বলেন, “এই গ্রামটি মূলত তফসিলি জাতি অধ্যুষিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ বাসস্থান দেওয়াই বাংলার বাড়ি প্রকল্পের(Banglar Bari Scheme) লক্ষ্য।”
মনসাদ্বীপ খাসমহাল গ্রামের বাসিন্দাদের অধিকাংশই ঘোড়ামারা দ্বীপ থেকে বাস্তুচ্যুত। নদীভাঙনের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে তাঁরা এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচাবাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হয়েছে তাঁদের। ঝড়-বৃষ্টির সময় আতঙ্কে কাটত প্রতিটি রাত। বাংলার বাড়ি প্রকল্প সেই আতঙ্কের অবসান ঘটাতে চলেছে।
দুই পর্যায়ে এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামটি সম্পূর্ণ পাকা বাড়ির আওতায় আসবে। প্রথম পর্যায়ে ১১২ জন উপভোক্তা ইতিমধ্যেই আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। পাশাপাশি ১৮৫ জন পরিবার নিজেদের গৃহনির্মাণের অনুমোদনপত্র হাতে পেয়েছেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সকল অনুমোদিত উপভোক্তার বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
উপভোক্তাদের মধ্যে ধনঞ্জয় মণ্ডল, অণিমা মণ্ডল, নিরঞ্জন ঘড়াই, উমারানি দিন্দারসহ অনেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, “কাঁচাবাড়িতে ঝড়ের ভয় নিয়ে আর থাকতে হবে না। বাংলার বাড়ি আমাদের নতুন ভরসা।”




