কলকাতা: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই এখন আর কেবল প্রযুক্তি জগতের আলোচনার বিষয় নয়। ধীরে ধীরে তা ঢুকে পড়ছে শিক্ষা ও গবেষণার মূল স্রোতে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি গবেষণায়(PhD Research) এআই ব্যবহারের বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত নীতি গ্রহণ করল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য প্রকাশিত পিএইচডি গাইডলাইন অনুযায়ী, গবেষণার প্রয়োজনে নির্বাচিত ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা যাবে। তবে সেই ব্যবহার কোনওভাবেই অস্পষ্ট বা গোপন রাখা চলবে না। গবেষককে তাঁর থিসিসে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, কোন কোন অংশে এবং কী ধরনের কাজে এআই-এর সাহায্য নেওয়া হয়েছে। মূল গবেষণা ভাবনা, তত্ত্ব নির্মাণ, বিশ্লেষণ ও উপসংহার অবশ্যই গবেষকের নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমের ফল হতে হবে এই বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশিকায়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি পিএইচডি থিসিসে(PhD Research) সর্বাধিক ১০ শতাংশ অংশে এআই ব্যবহার করা যাবে। এই সীমা অতিক্রম করলে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্র বাতিল করার ক্ষমতা রাখছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নিয়মের উদ্দেশ্য এআই-কে সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করা, গবেষকের বিকল্প হিসেবে নয়।
শিক্ষক মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। তবে এআই ব্যবহারের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপিকা মউ দাশগুপ্তের মতে, বর্তমানে এমন প্রযুক্তি রয়েছে যা এআই দিয়ে লেখা লেখাকেই আবার এআই ব্যবহার করে মানবসৃষ্ট লেখার মতো করে তুলতে পারে। ফলে এই ধরনের লেখা শনাক্ত করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তাঁর মতে, এই জায়গায় শুধু সফটওয়্যার নয়, শিক্ষকদের সতর্ক নজরও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের উচ্চশিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করল। এআই-কে নিষিদ্ধ না করে, আবার লাগামছাড়া ব্যবহারের অনুমতিও না দিয়ে এই মধ্যপন্থাই আগামী দিনে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।




