মুম্বই: বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুর ২৪ ঘন্টা পেরিয়েছে। এর মধ্যেই উদ্ধার করা হল ভেঙে পড়া বিমানের ব্ল্যাকবক্স।(Black Box) বৃহস্পতিবার সকালে ভেঙে পড়া লিয়ারজেট-৪৫ মডেলের বিমানটির ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। সেটির মধ্যে থাকা তথ্য বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলেই জানা যাবে, দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল ককপিটের অভ্যন্তরে।
কোনও বিমানের ব্ল্যাকবক্সেই(Black Box) বিমানের গতিবিধি সংক্রান্ত সমস্ত খুঁটিনাটি এবং ককপিটের ভিতরের কথোপকথনের রেকর্ড থাকে। ফলে ব্ল্যাকবক্সের তথ্য খতিয়ে দেখে জানা যাবে সমস্ত ঘটনা। বুধবার সকালের ওই দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যায় বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি)-র একটি বিশেষ দল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এরপরই এটি উদ্ধার করা হয়।
ডিজিসিএ-র এক ঊর্ধ্বতন কর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে দুই বিমানকর্মী (এক জন পাইলট, অপর জন ফার্স্ট অফিসার)-র মধ্যে কোনও এক জন চিৎকার করে বলে উঠেছিলেন, ‘‘ওহ্ শিট!’’ সাধারণত কোনও কাজে বড় ভুল হলে, বা কেউ কোনও কিছুতে হতাশ হলে এই আপাত অশোভন ইংরেজি শব্দদ্বয় ব্যবহার করা হয়। তার পর ওই বিমান থেকে আর কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। শেষমেশ বুধবার সকাল ৮টা ৪৩ মিনিট নাগাদ ভেঙে পড়ে বিমানটি।
প্রাথমিক ভাবে অজিত পাওয়ারের বিমানের উড়ানে কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সবটা জানতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। জানা গিয়েছে, ওড়ার ১০ মিনিটের মাথায় অজিতের বিমান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ছয় কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে যায়। তখন তার গতি ছিল ১০৩৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানটি ১০১৬ মিটার উচ্চতায় নেমে আসে।
কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভেঙে পড়ার আগের মুহূর্তে এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন পাইলট। জানিয়েছিলেন, রানওয়ে তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। বাতাসের গতিবিধি এবং দৃশ্যমানতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন পাইলট। উত্তরে তাঁকে জানানো হয়েছিল, দৃশ্যমানতা প্রায় ৩,০০০ মিটার। এর পর বিমানটিকে একবার চক্কর খাইয়ে পুনরায় অবতরণ করানোর চেষ্টা করেন পাইলট। এই সময় পাইলট জানিয়েছিলেন তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। এটিসি থেকে ঠিক সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বিমান অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে আর কোনও উত্তর মেলেনি। এর পরেই ৮টা ৪৪ মিনিট নাগাদ দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায় রানওয়েতে। দুর্ঘটনার সময়ে মাঝারি মাপের ওই চার্টার্ড বিমানটিতে এনসিপি নেতা অজিত-সহ পাঁচ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং দু’জন ছিলেন বিমানকর্মী। দুর্ঘটনায় পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে।




