ডায়মন্ড হারবার: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন শুনানি(SIR Hearing) যেন রীতিমতো বিয়ের আসরে পরিণত হল। শুনানি কেন্দ্রে হাজির হলেন হবু বর, সঙ্গে গোটা বরযাত্রী! এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি বলেই মত স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়াকিবহাল মহলের।
রাজ্যজুড়ে যখন এসআইআর শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠছে, ঠিক সেই সময় এক আজব ঘটনায় তোলপাড় ডায়মন্ড হারবার। মঙ্গলবারই ছিল আনোয়ার হোসেন খানের বিয়ের দিন। অথচ ঠিক সেই দিনই তাঁর নামে এবং তাঁর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী মিলিয়ে মোট ৩৮ জনের নামে পৌঁছে যায় এসআইআর শুনানির নোটিস। সকলেই বরযাত্রী।
ঘটনাটি ঘটেছে ডায়মন্ড হারবারের ১ নম্বর ব্লকের বোলসিদ্ধি–কালিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ষাটমনিষা গ্রামে। ২৬২ নম্বর বুথের ভোটার আনোয়ার হোসেন খান জানিয়েছেন, বিয়ের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। মেয়ের বাড়ি হাওড়ায়। ডায়মন্ড হারবার থেকে হাওড়ায় পৌঁছতে যথেষ্ট সময় লাগে। তার মধ্যেই এই শুনানির নোটিস তাঁদের কার্যত চরম বিপাকে ফেলে দেয়।
বিয়ের আগে শুনানিতেই(SIR Hearing) হাজিরা দিতে হবে। তাই বরের সাজেই শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছন আনোয়ার হোসেন খান। শুধু তাই নয়, যাঁরা যাঁরা শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা তাঁরাও বরযাত্রীর বেশেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন।
শুনানি কেন্দ্রে এই দৃশ্য দেখে কার্যত হতবাক হয়ে যান স্থানীয় মানুষজন। মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বরের সাজে শুনানিতে হাজির হওয়ার এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয় তীব্র আলোচনা।
বর ও বরযাত্রীরা অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র আগেই জমা দেওয়া হয়েছিল। তবুও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ দেখিয়ে একসঙ্গে ৩৮ জনকে নোটিস পাঠানো নিছক হয়রানি ছাড়া আর কিছু নয়। শুভদিনে এমন শুনানির ডাক তাঁদের ধর্মীয় আচার, রীতিনীতি এবং অনুষ্ঠানপর্বে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাতে পারত বলেও জানান তাঁরা।
আনোয়ার হোসেন খান ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আজ আমার বিয়ের দিন। এই দিনেই যদি শুনানির জন্য ডাকা হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট হয়রানি। আমরা সাধারণ মানুষ, আমাদের সময়, সম্মান কিছুই কি মূল্য নেই?”
শুনানি শেষে আর দেরি না করে দ্রুত হাওড়ার উদ্দেশে রওনা দেন বর ও বরযাত্রীরা। যদিও তাঁদের মুখে ছিল স্বস্তির নিশ্বাস, তবুও এই অভিজ্ঞতা যে তাঁদের জীবনের এক অবিস্মরণীয় তিক্ত স্মৃতি হয়ে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।




