সিঙ্গুর: নিজের সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত হিসেব তুলে ধরে বিরোধী শিবিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।(Mamata Banerjee) এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ভিক্ষার রাজনীতি মানে না। রাজ্যের নিজস্ব অর্থেই জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাই বজায় থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আশা ও আইসিডিএস কর্মীদের কাজকে আরও গতিশীল করতে মোবাইল ফোন কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই কর্মীরাই প্রত্যন্ত এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখেন। তাঁদের হাতে প্রযুক্তিগত সুবিধা তুলে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। কৃষক কল্যাণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শস্যবিমা প্রকল্পে কৃষকদের জন্য ৪ হাজার কোটিরও বেশি টাকা ইতিমধ্যেই প্রদান করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার সবসময় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে।
উদ্বাস্তুদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী(Mamata Banerjee) জানান, দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাজ্যের ২৯০টি উদ্বাস্তু কলোনিকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু পরিবার নাগরিক অধিকার ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা মানুষকে ভিখারি করি না, সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার দিই।” খাদ্যসাথী ও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কোটি কোটি মানুষ নিয়মিত খাদ্য ও বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর চিকিৎসা খরচের চাপ কমাতেই এই প্রকল্পগুলি চালু করা হয়েছে।
শিল্পায়ন নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শিল্প হবে কিন্তু কৃষিজমিতে নয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই সিঙ্গুরে ৮ একর জমির উপর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, কৃষি ও শিল্প দুটির মধ্যে ভারসাম্য রেখেই রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব। কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।




