কলকাতা: এসআইআর তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বাংলায় যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা ক্রমশ জাতীয় স্তরে পৌঁছচ্ছে। সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগে সরব তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতেই আগামী মাসে দিল্লি সফরের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।(Mamata Banerjee)
সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লির লোকভবনে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ডাকে আয়োজিত চা চক্রে যোগদান করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷(Mamata Banerjee) সেখানেই নিজের আসন্ন দিল্লি সফরের কথা জানান তিনি। যদিও তিনি স্পষ্ট করে বলেননি যে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কি না। তবে টানা চিঠি, প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং প্রতিনিধিদলের দিল্লি সফরের পর এই সফরকে নিছক সৌজন্যমূলক বলা কঠিন৷
এই সফরের সময়ই সংসদে বাজেট অধিবেশন চলবে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা সংসদে কী কৌশল নেবেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কোন কোন ইস্যুতে আক্রমণ শানানো হবে এবং এসআইআর নিয়ে কীভাবে বিষয়টি জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরা হবে সবকিছু নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী দিকনির্দেশ দিতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে আসছেন যে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রেই বয়স্ক মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক এবং প্রান্তিক নাগরিকেরা সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে দাবি তৃণমূলের। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার শামিল।
এই অভিযোগের প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক কর্মসূচিতে শামিল হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। তাঁর সঙ্গে রাস্তায় নেমেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও অন্যান্য নেতারা।
একটি কর্মসূচি থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “নেত্রীর অনুমতি নিয়ে বলছি, একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে দিল্লিতে লক্ষ মানুষকে নিয়ে আন্দোলন হবে।”
পরবর্তীতে গত বছরের শেষদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তির কথা জানায়। যদিও পরে দলের তরফে অভিযোগ করা হয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের প্রশ্নগুলির কোনও স্পষ্ট উত্তর দেননি।
এদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়ার জটিলতা ও মানবিক দিক তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখেছেন। সূত্রের দাবি, তিনি মোট পাঁচটি চিঠি পাঠালেও এখনও পর্যন্ত কোনও জবাব আসেনি। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরে তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাবেন কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




