কলকাতা: সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও এবার ছায়া ফেলল এসআইআর বিতর্ক।(SIR Harassment) বৃহস্পতিবার ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার মঞ্চ থেকে ফের একবার এসআইআর-এর নামে চলা হয়রানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর অভিযোগ, বাংলায় এই প্রক্রিয়া এখন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কবি, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের জন্যও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বইমেলা মানে শুধু বই নয়, চিন্তার স্বাধীনতা। আর সেই স্বাধীনতাকেই আজ ভয় দেখানো হচ্ছে।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এসআইআরের নামে মানুষকে অকারণে শুনানিতে ডেকে এনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হচ্ছে।(SIR Harassment) এতে শুধু সময় নষ্ট নয়, মানসিক চাপও ভয়াবহভাবে বাড়ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই মানসিক চাপের ফলেই ইতিমধ্যে ১১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার নিয়ে বিশেষভাবে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই শব্দ আগে কখনও শোনা যায়নি। একমাত্র বাংলাতেই এই অদ্ভুত নিয়ম চালু হয়েছে। অন্য রাজ্যে কেন নেই?” তাঁর প্রশ্ন, যদি নিয়ম সর্বভারতীয় হয়, তাহলে বাংলাকেই কেন বারবার পরীক্ষাগারে পরিণত করা হচ্ছে?
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন এবং বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামীর নাম। তিনি বলেন, “যাঁরা দেশের মুখ, যাঁরা বাংলার গর্ব—তাঁদের কাছেও যদি এসআইআর নোটিস পৌঁছে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে?” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি শুধুই প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং সমাজের বুদ্ধিজীবী অংশকে চাপে রাখার চেষ্টা।
এছাড়াও তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে নামের বানান বা পদবীর সামান্য পার্থক্যের কারণে মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। “একই পরিবারে বাবা-মা, ছেলে-মেয়েদের আলাদা আলাদা শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এটা কি যুক্তিসঙ্গত?” প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বইমেলার মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে একজোট হয়ে প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজ আমি শুধু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেও বলছি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।” লেখক, প্রকাশক, শিল্পী ও পাঠকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, এই লড়াই গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানো যাবে না। তাঁর কথায়, “যেখানে অন্যায় হবে, সেখানেই প্রতিবাদ হবে।” বইমেলার মতো একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ থেকে এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।




