পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী ক্ষমতায়নের প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ সম্প্রতি ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে। অল্প দৈর্ঘ্যের এই ছবিটি শুধু বিনোদন নয়, বরং বাস্তব জীবনের গল্পের মাধ্যমে দেখাচ্ছে কিভাবে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নারীকল্যাণমূলক প্রকল্প(Women Empowerment) গ্রামবাংলার নারীদের জীবন পরিবর্তন করছে।
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র লক্ষ্মী বাড়ুই (অভিনয়ে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়) এক সাধারণ গ্রামীণ নারী। অকালে স্বামীকে হারানো, শ্বশুরবাড়ির চাপ ও সামাজিক বঞ্চনার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তার জীবন তখন একেবারেই দিশাহীন। ঠিক সেই সময় হাজির হন পঞ্চায়েত দফতরের স্বেচ্ছাসেবক (অঙ্কুশ হাজরা), যিনি তাকে রাজ্য সরকারের প্রকল্প সম্পর্কে জানান।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আনন্দধারা, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী এবং পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ্মী অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হন।(Women Empowerment) পাশাপাশি তিনি চাষাবাদের কাজে যুক্ত হন এবং নিজের জীবন পরিচালনায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে শাশুড়ির চিকিৎসার ব্যবস্থা করাও ছবিতে দেখানো হয়েছে, যা পারিবারিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করে।
ছবিতে শুভশ্রী ও অঙ্কুশ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহিনী সেনগুপ্ত, খরাজ মুখোপাধ্যায় এবং অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের সাবলীল অভিনয় গল্পটিকে বাস্তব ও প্রভাবশালী করে তুলেছে।
‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ শুধুমাত্র একটি গল্পের ছবি নয়। এটি রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। দেখানো হয়েছে কিভাবে কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আনন্দধারা, স্বাস্থ্যসাথী এবং পথশ্রী প্রকল্প গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করছে।
ইউটিউবে মুক্তির আগে ছবিটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী কলকাতার নন্দন প্রেক্ষাগৃহে আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবে মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে। সরকারের কাজ মানুষের কাছে তুলে ধরা খুবই জরুরি।”
গ্রামীণ নারীদের সংগ্রাম এবং রাজ্য সরকারের প্রকল্পের সফলতার গল্পকে তুলে ধরার মাধ্যমে ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এটি একটি প্রেরণাদায়ক গল্প, যা দেখায় কিভাবে একজন নারী সামাজিক, পারিবারিক এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে আত্মনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
ছবিটি এখন ইউটিউবে মুক্ত এবং সকলের জন্য উপলব্ধ। এই চলচ্চিত্রটি শুধু বিনোদন নয়, বরং নারী ক্ষমতায়নের বাস্তব উদাহরণ এবং গ্রামীণ সমাজে রাজ্য সরকারের প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাবের প্রতিচ্ছবি।




