মুর্শিদাবাদ: এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস(SIR Notice) ঘিরে মুর্শিদাবাদে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হল রাজ্য। সন্তানের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর সরকারি নোটিস পাওয়ার পর থেকেই প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন এক ব্যক্তি। শেষ পর্যন্ত সেই আতঙ্কই প্রাণ কেড়ে নিল বলে অভিযোগ পরিবারের।
মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ব্লকের নওদাপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার সকালে মৃত্যু হয় আকসত আলি মণ্ডল (৫২)-এর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিস পৌঁছয় তাঁর বাড়িতে। সেই নোটিসে সন্তানের সংখ্যা ছয়ের বেশি উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে তাঁর পাঁচ ছেলে রয়েছে।
পরিবারের দাবি, নোটিস(SIR Notice) হাতে পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ভেঙে পড়েন আকসত আলি। ছেলেরা সকলেই কর্মসূত্রে বাইরে থাকায় তাঁদের কীভাবে শুনানিতে হাজির করা হবে, কী নথি জমা দিতে হবে—এই সব প্রশ্ন তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
মৃত ব্যক্তির চার ছেলে কেরলে কর্মরত এবং মেজো ছেলে সৌদি আরবে কাজ করেন। সকলের কাছেই এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। কেরলে থাকা চার ছেলে ইতিমধ্যেই বাড়ি ফেরার টিকিট কাটলেও সৌদি আরবে থাকা ছেলে ছুটি না পাওয়ায় উপস্থিত থাকতে পারছেন না।
এই পরিস্থিতিই আকসত আলিকে আরও উদ্বিগ্ন করে তোলে। পরিবার জানায়, তিনি বারবার বলতেন, “ভুল তথ্য দিয়ে নোটিস পাঠিয়ে আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। সরকার আমাদের কথা একবারও ভাবছে না।”
মঙ্গলবার সকালে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বুকে ব্যথা শুরু হলে তড়িঘড়ি তাঁকে সাদিখাঁরদিয়াড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকেই মৃত্যু হয়েছে।
মৃতের স্ত্রী সরিফা বিবি বলেন, “নোটিস আসার পর থেকেই উনি ঠিকমতো ঘুমোতে পারছিলেন না। সারাক্ষণ চিন্তায় থাকতেন। ছেলেদের নিয়ে ভয় পেতেন। মানসিক চাপেই এই পরিণতি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নোটিস মানেই গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে বড় চাপের বিষয়। সেখানে যদি ভুল তথ্য থাকে, তাহলে তা মারাত্মক মানসিক ধাক্কা দেয়।




