পুরুলিয়া: ডিজিটাল দুনিয়ায় যখন মোবাইল, ট্যাবলেট আর ল্যাপটপই হয়ে উঠেছে লেখাপড়ার প্রধান মাধ্যম, তখনও পুরুলিয়ার ঘরে ঘরে অটুট রয়েছে প্রাচীন লেখন ঐতিহ্যের স্মারক—খাগের কলম।
বসন্ত পঞ্চমী ও সরস্বতী পুজো(Saraswati Puja) এলেই এই শতাব্দীপ্রাচীন রীতির প্রতি মানুষের বিশ্বাস নতুন করে জেগে ওঠে। এই খাগের কলমেই স্বয়ং বিদ্যার দেবী সরস্বতী ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যার সূচনা মন্ত্র লেখেন।
এ বছর পুরুলিয়া জেলায় প্রায় ১০ লক্ষ খাগের কলমের চাহিদা তৈরি হয়েছে। কলকাতার বড়বাজার থেকে বিপুল সংখ্যক কলম সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন দশকর্মা ভাণ্ডারে মজুত করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড লাগোয়া এই জেলায় বছরের পর বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে এই প্রথা মেনে চলছেন মানুষজন।
খাগের কলমের সঙ্গে থাকে ছোট মাটির দোয়াত ও লাল কালি বড়ি। দোয়াতে লাল রঙের কালি বড়ি ফেলে তাতে দুধ ও সামান্য মধু মিশিয়ে তৈরি হয় বিশেষ কালি। এরপর সেই খাগের কলম দিয়েই লেখা হয় পবিত্র মন্ত্র—
“ওঁ নমঃ সরস্বতী মাতা নমঃ।”
পুরুলিয়া শহরের দশকর্মা ভাণ্ডারের পাইকারি বিক্রেতা নিখিলেশ দাস জানান,
প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িতেই খাগের কলম যায়। যতজন পড়ুয়া, ততগুলো কলম নেওয়া হয়। এবার প্রায় এক লক্ষ কলম এনেছি।
দশকর্মা ব্যবসায়ী ফাল্গুনী সেন বলেন, “ডিজিটাল যুগ এলেও এই কলমের প্রতি মানুষের আস্থা এখনও অটুট। তাই সরস্বতী পুজোর(Saraswati Puja) সময় বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়।”
এই খাগের কলমের সঙ্গে পুরুলিয়ার উপকণ্ঠের প্রদীপ গ্রাম কোটলয়ে তৈরি ছোট মাটির দোয়াতেরও আলাদা কদর রয়েছে। প্রতিটি দোয়াতের দাম মাত্র ২ টাকা। এক একটি বাণ্ডিলে থাকে ১০০টি কলম। একটি কলমের দাম ১ টাকা হলেও দোয়াত ও কালি বড়ি মিলিয়ে পুরো সেটের দাম রাখা হয়েছে ১০ টাকা।




