সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে পুরুলিয়া জেলার একাধিক এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগ উঠল। লোকালয়ে হাতির হানা(Elephant Attack) দেওয়ার নামে ভাইরাল হওয়া দুটি ভিডিওকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি করেছে বনদফতর। ঘটনার পরই বনদফতরের পক্ষ থেকে রঘুনাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিনের মধ্যে সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দুটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও দুটিতেই হাতির চলাচলের দৃশ্য দেখা যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে একটি দাঁতাল হাতি নদী পার হচ্ছে। অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, কুয়াশা ঢাকা রাস্তায় একদল হাতি পাকা সড়ক পারাপার করছে।
এই ভিডিওগুলির সঙ্গে দাবি করা হয়, প্রথমটি নাকি পুরুলিয়ার জয়পুর-চাষ মোড় এলাকার এবং দ্বিতীয়টি রঘুনাথপুরের ঝাড়ুখামার এলাকার দৃশ্য। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, “রাঁচি থেকে হাতি ঢুকেছে পুরুলিয়ায়। এলাকাবাসী সাবধান থাকুন।”
‘রাহুল রাহুল’ নামে একটি মেটা অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও দুটি পোস্ট করা হয়। পোস্ট হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওগুলি ভাইরাল হয়ে যায়। প্রথম ভিডিওটি কয়েক লক্ষ মানুষ দেখেন এবং দ্বিতীয় ভিডিওটিও বিপুল সংখ্যক মেটা ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যায়। অনেকেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই না করেই তা শেয়ার করেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি বনদপ্তরের নজরে আসতেই শুরু হয় তদন্ত। কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের আধিকারিকরা ভিডিওগুলির উৎস ও অবস্থান যাচাই করে দেখেন, ওই ভিডিওগুলির কোনোটিই পুরুলিয়া জেলার নয়। যেসব এলাকাকে ভিডিওতে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলি বর্তমানে হাতি উপদ্রুত(Elephant Attack) এলাকা হিসেবে চিহ্নিত নয়।
কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের ডিএফও মুদিত কুমার বলেন,
“ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। এটি আইনশৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি এবং কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
রবিবার রাতে রঘুনাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের রেঞ্জার নীলাদ্রি সখা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়ো ভিডিও পোস্ট করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
বনদফতর সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, জয়পুর এলাকা পুরুলিয়া বন বিভাগের অধীন এবং চাষ মোড় ও ঝাড়ুখামার এলাকা কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাভুক্ত। এই তিনটি রেঞ্জ হাতির করিডরের মধ্যে পড়ে না। অতীতে কোনও কোনও সময় পথভ্রষ্ট হাতি ঢুকলেও বর্তমানে ওই এলাকায় হাতির উপস্থিতির কোনও প্রমাণ নেই।
বনদফতরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কোনও ভিডিও বা পোস্ট দেখলেই তা যাচাই না করে শেয়ার করবেন না। ভুয়ো খবর ছড়ালে সামাজিক অশান্তি তৈরি হতে পারে এবং প্রশাসনিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এই ধরনের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রয়োজনে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।




