কলকাতা: রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়াকে(SIR Process) কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে৷ ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যেভাবে নোটিশ পাঠিয়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে এবং নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তাতে বহু মানুষ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। অভিযোগ উঠছে, প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক চাপের জেরে সাধারণ নাগরিকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই আতঙ্কের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরপর মৃত্যুর খবর সামনে আসছে।
নদিয়ার করিমপুরে এসআইআর শুনানির ভয়ে আত্মঘাতী হলেন ফিজুর খান নামে এক ব্যক্তি। সোমবার সকালে তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে তিনি এসআইআর শুনানি সংক্রান্ত মানসিক চাপ ও প্রশাসনিক হয়রানির কথা উল্লেখ করেছেন।
একই রকম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাটে। পুরসভা এলাকার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জনি শেখ সোমবার সকালে নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার হন। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন জনি।
এই দুই আত্মহত্যার পাশাপাশি আরও দুই বৃদ্ধের মৃত্যুর জন্যও এসআইআর(SIR Process) আতঙ্ককে দায়ী করেছে তাঁদের পরিবার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ছোয়েদ শেখ নামে এক বৃদ্ধের। তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে কাজ করেন। এসআইআর শুনানিতে তাঁর ডাক পড়েছিল, কিন্তু কর্মসূত্রে বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়। পরিবারের অভিযোগ, ছেলের অনুপস্থিতিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে — এই ভয়েই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ছোয়েদ শেখ। সেই দুশ্চিন্তার মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে সামির আলি শেখ নামে এক বৃদ্ধের। তাঁর পাঁচ সন্তানের প্রত্যেকের নামেই এসআইআর শুনানির নোটিশ আসে। পরিবার জানিয়েছে, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের ভোটার কার্ড বাতিল হয়ে যেতে পারে — এই আশঙ্কায় প্রবল দুশ্চিন্তায় ছিলেন সামির আলি। সেই মানসিক চাপই শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ।




