অসম: ফের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিক। কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকার যুবক হিমাঙ্কর পালকে খুন করে রেললাইনের ধারে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অসমের গোয়ালপাড়া জেলার একটি রেলপথের পাশ থেকে তাঁর(Migrant Worker) মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কর্মরত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন উঠে গেল।
মৃত যুবকের নাম হিমাঙ্কর পাল। বয়স আনুমানিক ২৬ বছর। পেশায় রংমিস্ত্রি হিমাঙ্কর দীর্ঘদিন ধরে অরুণাচলপ্রদেশে কাজ করতেন। সংসারের একমাত্র ভরসা ছিলেন তিনি। পরিবার চালানোর জন্যই দূর রাজ্যে গিয়ে পরিশ্রম করতেন হিমাঙ্কর।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার অরুণাচলপ্রদেশ থেকে বাড়ি ফেরার পথে অসমের একটি গাড়িতে ওঠেন হিমাঙ্কর। সেই গাড়ির চালকের সঙ্গে কোনও বিষয় নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই ঝামেলা গুরুতর আকার নেয়। গাড়ির মধ্যেই মোবাইলে বাড়িতে ফোন করে গোটা পরিস্থিতির কথা জানান হিমাঙ্কর।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ফোনে হিমাঙ্ক জানিয়েছিলেন যে চালকের সঙ্গে তীব্র বচসা চলছে এবং তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোন কেটে যায়। এরপর আর তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। সারা রাত ফোনে চেষ্টা করেও কোনও সাড়া না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় ভেঙে পড়ে পরিবার।
রবিবার গোয়ালপাড়া জেলার একটি রেললাইনের ধারে এক যুবকের(Migrant Worker) রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিচয় নিশ্চিত হলে জানা যায়, ওই যুবক হিমাঙ্কর পাল।
পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে খুন করে দেহ রেললাইনের ধারে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানায়নি। গোয়ালপাড়া থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনার খবর পৌঁছতেই শীতলকুচিতে নিহত যুবকের বাড়িতে যান তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায়। শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও নিন্দনীয়। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে একের পর এক বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে। তাঁদের কোনও নিরাপত্তা নেই। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”




