সিঙ্গুর: হুগলি জেলার সিঙ্গুরের দেওয়ানভেরি গ্রামে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশে বাংলায় কথা বলার কারণে এক পরিযায়ী শ্রমিকের(Migrant Workers) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম শেখ সইদুল্লা, বয়স ৩২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উত্তরপ্রদেশের একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন। তার স্ত্রী ও সন্তানও সেখানেই থাকতেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সইদুল্লার স্ত্রী সম্প্রতি এসআইআর শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য অস্থায়ীভাবে গ্রামে ফিরেছিলেন। মূলত ১৯ তারিখ সইদুল্লা নিজেই গ্রামে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সে সেই সময়ের আগেই বাড়িতে ফিরল না, বরং তার পরিবারের হাতে পৌঁছলো কফিনবন্দি দেহ। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
সইদুল্লার স্ত্রী আরমিনা বেগম জানিয়েছেন, বাংলায় কথা বলার কারণে তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্নভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছিল। তিনি বলেন, “আমাদেরকে বাংলাদেশি মনে করে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময়ে হেনস্থা করত। অবশেষে সুযোগ পেয়ে তাঁকে খুন করেছে।” এই ঘটনার পর সিঙ্গুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিকরাও ঘটনাস্থলে এসে পরিবারের পাশে দাঁড়ান। হরিপালের বিধায়ক করবী মান্না নিহতের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানান এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “পরিবারের পাশে আমরা আছি এবং এ ধরনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের(Migrant Workers) প্রতি দীর্ঘদিন ধরেই নানা রকম অত্যাচারের অভিযোগ উঠে আসছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বারবার এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভিনরাজ্যে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যে কোনো হেনস্থা ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি তাদের নিরাপদে ঘরে ফেরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যেই অনেক শ্রমিককে নিরাপদে তাদের বাড়িতে ফেরানো হয়েছে।




