টানা ৪৮ ঘণ্টা স্নায়ুর লড়াইয়ের পর মধ্যপ্রদেশে হাল ছেড়ে দিল বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে ১০৯ আসনেই দৌড় থামল গেরুয়া শিবিরের। কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ১১৪টি আসন।সরকার গঠন করার জন্য প্রয়োজন ১১৬ আসন। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করলেন বহুজন সমাজ পার্টির সুপ্রিমো মায়াবতী৷ রাজধানী দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি কংগ্রেসকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেন৷ সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন দরকার পড়লে রাজস্থান ও ছত্তিশগড়েও রাহুলের দলকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত বসপা৷
কিন্তু সরকার ধরে রাখতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল বিজেপি। মঙ্গলবার সন্ধ্যে থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিবরাজ সিং চৌহানের বাড়িতে বৈঠকে বসেছিলেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। আজ বুধবার সকালেও ফের বৈঠকে বসেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কোনও কোনও মহল থেকে মনে করা হচ্ছিল, আরও সাতটি আসন জোগাড় করে সরকার গঠনের দাবি জানাতে চলেছে বিজেপি। কিন্তু বেলা বাড়তেই ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যায়। আজ বুধবার সকাল ১১ টা নাগাদ একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ‘সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাইনি। সরকার গঠন করার দাবি করব না। রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিতে যাচ্ছি।‘
ততক্ষণে অবশ্য মায়াবতী কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া মাত্র দু’জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করে নেওয়া এমন কোনও অসাধ্য কাজ ছিল না রাহুলের দলের কাছে৷ সূত্রের খবর কয়েকজন নির্দল বিধায়ক কংগ্রেসকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে৷ একটি আসন পাওয়া সমাজবাদী পার্টি রাহুলের দলকেই সমর্থন করবে বলে জানিয়েছে৷ বাদ ছিলেন মায়াবতী৷
এই ফলাফলের পর মায়াবতী যে বিজেপিকে সমর্থন করবেন না এটা প্রত্যাশিত ছিলই৷ তিনি ঘোষিত বিজেপি বিরোধী নেত্রী৷ আবার কংগ্রেসের সঙ্গে বিশাল ভালো সম্পর্ক মায়ার এমনও নয়৷ বিধানসভা ভোটের আগে আসনরফা নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে বিজেপি বিরোধী জোট থেকে বেরিয়ে আসেন বসপা নেত্রী৷
তবে সমর্থন জানালেও কংগ্রেসের প্রতি কিছুটা ক্ষোভও উগড়ে দেন বসপা নেত্রী। বলেন, ‘কংগ্রেস একটা সময় অধিকাংশ রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল৷ তাসত্ত্বেও মানুষের উন্নয়নে বিশেষ কিছুই করেনি৷ কংগ্রেস ঠিকমতো দেশ চালালে আজ বিজেপির কোনও অস্তিত্ব থাকত না৷ তবে এটাও ঠিক বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখাটা বেশি জরুরি৷ তাই কংগ্রেসকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত’৷




