রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কগুলির উপর শীর্ষ ব্যাঙ্কের কড়া ঋণনীতির জেরে কেন্দ্রের সঙ্গে প্রকাশ্যে মনোমালিন্যে জড়িয়ে পড়ে গভর্নর উর্জিত প্যাটেলের পদত্যাগ ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা, হয়েছেও তাই৷ সোমবারই ইস্তফা দিয়েছেন প্যাটেল৷ তাঁর ইস্তফার পরই জল্পনা চলছিল এ বার কার হাতে উঠতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভার। বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নতুন গভর্নরের দায়িত্ব নিয়েছেন শক্তিকান্ত দাস। আর তারপরই বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী তাঁকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে তোপ দাগলেন৷
স্বামী বলেছেন, যে ব্যক্তি পি চিদম্বরমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দুর্নীতি করেছেন, সে রকম এক ব্যক্তিকে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে মোটেই ভাল করেনি কেন্দ্র। পাশাপাশি তাঁর আরো অভিযোগ, চিদম্বরমের বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতির মামলা চলছিল, এই শক্তিকান্ত দাসই নাকি তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন! স্বামীর তাই প্রশ্ন, এমন এক জন ব্যক্তি যিনি ইতিমধ্যেই দুর্নীতির পাঁকে ডুবে, তাঁকে এমন এক গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয় কী করে? তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও লিখেছেন বলে জানিয়েছেন স্বামী৷
এমনিতেই ভোটের ভয়ানক বিপর্যয়ে পায়ের তলায় মাটি কার্যত নেই বিজেপির, তার ওপর সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর এহেন মন্তব্যে আরো চাপে বিজেপি৷ শক্তিকান্তের নিয়োগ নিয়ে নিজেদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শক্তিকান্ত বরাবরই তামিলনাড়ু ও কেন্দ্রীয় সরকারে আর্থিক দফতর সামলেছেন। তিনি ইউপিএ আমলে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। আবার বর্তমান অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিরও ঘনিষ্ঠ তিনি। আর্থিক বিষয়ক সচিবের পদ থেকে অবসরের পর জি-২০-তে ভারতের শেরপা বা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। ওড়িশার এই অফিসার এখন পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সদস্য। তাই তাঁর উপরেই এই দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে৷
তবে অন্য সুর শোনা যাচ্ছে স্বয়ং বিজেপির আমলাদের গলাতেই! আমলারা অনেকেই বলছেন, শক্তিকান্তের আসল উপযোগিতা অন্য জায়গায়। তাঁর ঐকমত্য তৈরির ক্ষমতা কেন্দ্রের সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সংঘাতের আবহে কার্যকর হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, জেটলির অর্থ মন্ত্রক যখন লোকসভা ভোটের আগে খয়রাতি করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভাঁড়ারে থাকা উদ্বৃত্ত অর্থের ভাগ চাইছে, তখন সেই জেটলির অধীনে সচিব হিসেবে কাজ করা শক্তিকান্তের পক্ষে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বাধীনতা বজায় রাখা সম্ভব হবে তো?
এ যেন নিজেদের ঘরের দ্বন্দ্বই প্রকাশ্যে চলে এল৷ নতুন গভর্নরকে নিয়ে শীর্ষমহলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথমে মুখ খুললেন সুব্রহ্ম্যনম স্বামী, তারপরে আমলারাও অন্য কারণ তুলে ধরছেন৷ ফলে বিজেপির এখন কার্যত এলোমেলো হাল৷ উল্লেখ্য শক্তিকান্ত দুঁদে অর্থনীতিবিদ নন, তিনি ইতিহাসে এমএ। তাই নতুন গভর্নর হিসেবে যখন তাঁর নাম ঘোষণা হয়েছে, ভ্রূ কুঁচকেছেন অনেকেই। প্রশ্ন উঠেছে রঘুরাম রাজন-উর্জিত প্যাটেলের মতো অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদরা যেখানে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের পদ সামলেছেন, সেখানে ইতিহাসে এমএ করা এক জন ব্যক্তিকে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মাথায় বসিয়ে দেওয়া হল কী ভাবে? যদিও সঠিক উত্তর মেলেন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে৷




