গোমাতাও বাঁচাতে পারলেন না রাজস্থানের বিজেপি প্রার্থী এবং গো-মন্ত্রী ওটারাম দেওসিকে। শেষ পর্যন্ত একজন নির্দল প্রার্থীর কাছে গো-হারা হারলেন তিনি।
কে এই ওটারাম দেওসি? তিনি ভারতের ইতিহাসে নাম লেখানো প্রথম গো-মন্ত্রী। নিজেকে অবশ্য ‘গো পালন মন্ত্রী’ হিসাবেই পরিচয় দিতে পছন্দ করেন ওটারাম। নিজে পশু নির্ভর গোষ্ঠী হিসাবে পরিচিত ‘রবারী’ সম্প্রদায়ের মানুষ। থাকেন রাখালের বেশে। পরণে থাকে সাদা ধুতি, গায়ে সাদা উড়নি, মাথায় লাল পাগড়ি আর কানে ঝোলা দুল। যা রাজস্থানের পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত লোকজনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। আর হাতে থাকে খেটো লাঠি বা পাঁচন। এই বেশেই মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রাজ্যের সর্বত্র অবাধ বিচরণ তাঁর। বসুন্ধরা রাজের সঙ্গে দেখা করার সময়েও হাতের লাঠিটি হাতছাড়া করেন না তিনি।
গরুদের দেখভালের জন্য ওটারামের মন্ত্রী হয়ে ওঠার পিছনে একটা ইতিহাস আছে। ২০১৩ বিধানসভা নির্বাচনে সরকার গঠন করতে পারলে গরুদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। রাজস্থানে বিজেপি ইস্তেহারেও উল্লেখ ছিল একথা। ফলে বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার নেতৃত্বে বিজেপি রাজস্থান দখলের পর রাজ্যের গরুদের দেখভালের জন্য পৃথক মন্ত্রক বানাতে উঠে পড়ে লাগে। কিন্তু সাংবিধানিক বাধা-বিপত্তির জেরে আটকে যায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের গরুদের জন্য মন্ত্রক গড়ার প্রচেষ্টা। শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালে রাজ্যের গরুদের দেখভাল করতে পৃথক দফতর খোলার কথা ঘোষণা করেন বসুন্ধরা রাজে। আর সেই দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয় ওটারাম দেওসিকে। নিন্দুকেরা বলেন, এর পরেই গরুদের মন্ত্রী হন দেওসি।
এখানেই শেষ নয়, গরুদের দেখভাল ছাড়াও সরকার থেকে পূজাস্থান ও মন্দির-সংক্রান্ত অতিরিক্ত দায়িত্বও তুলে দেওয়া হয় দেওসির হাতে।
এই দেওসি নিজেই খান-পঁচিশেক গরুর মালিক, মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন রাজ্যে গো-পালন দফতর তৈরী করে যে নজির গড়েছে রাজস্থান, তা ভবিষ্যতে পথ দেখাবে দেশের বাকি রাজ্যগুলিকেও। এমনকি ভারতের প্রতিটি রাজ্যে গো-সুরক্ষার্থে পৃথক মন্ত্রালয় তৈরির দাবিও তোলেন তিনি।
কিন্তু এত কিছুর পরেও শেষরক্ষা হলনা। বিধানসভা নির্বাচনেই মুখ থুবড়ে পড়লেন ভারতের সর্বপ্রথম গো-মন্ত্রী, তাও আবার নির্দল প্রার্থী সংযম লোধার কাছে, ১০,২৫৩ ভোটের ব্যবধানে। লোধা পেয়েছেন ৮১,২৭২ ভোট, আর দেওসি পেয়েছেন ৭১,০১৯ ভোট।
অর্থাৎ জনতার রায়ে প্রিয় গরুদের ছাড়তেই হচ্ছে গো-মন্ত্রী ওটারাম দেওসিকে।




