এ যেন ঢাল নেই, তলােয়ার নেই নিধিরাম সর্দার! না আছে দলের কর্মী, না আছে সাধারণ মানুষের সমর্থন। তবুও ঘটা করে অস্তিত্ব জানান দিতে লােকসভা নির্বাচনের আগে ৩ ফেব্রুয়ারি বিগ্রেড সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিমান-সূর্যরা। আর তার আগেই জানুয়ারির ৮ এবং ৯ তারিখ দেশজুড়ে ধর্মঘট ডেকেছে । বামপন্থী সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন যাতে শামিল হয়েছে কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনও। দু’দিনের এই ধর্মঘটই কপালে বড়সড় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে রাজ্য বামফ্রন্টের। সেই কারণেই ধর্মঘট সফল করতে এবার স্ট্রাইক স্কোয়াড’ গড়ছে বাম ও কংগ্রেস। নিন্দুকেরা বলছে এই স্কোয়াড আসলে ‘লেঠেল বাহিনী’! কেননা দুদিনের ধর্মঘট ব্যর্থ হলে তার প্রভাব পড়বে ব্রিগেডের সমাবেশেও। প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর বামেরা একাধিক ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিলেও জনতা জর্নাদন তা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে বন্ধ ব্যর্থ করেছে। তাতেও শিক্ষা হয়নি বন্ধ প্রিয় বামেদের। তাই এবার মুখ বাঁচাতে আগেভাগেই সতর্ক আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। এ প্রসঙ্গে সিপিএমের কৃষকসভার রাজ্য কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘মাথা ফাটলে ফাটুক, কিন্তু যেভাবেই হোক ধর্মঘট সফল করবে। মুজফফর আহমেদ ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্যস্তরে এবং সমস্ত জেলা বা ব্লকস্তরে একটি করে এই বাহিনী তৈরি করা হবে।
দলের ছাত্র, যুব, শ্রমিক, কৃষক, মহিলা সহ সমস্ত ফ্রন্ট থেকে সদস্য নিয়ে এই স্কোয়াড গড়া হবে। যে কমিটিতে থাকবে কংগ্রেসের বিভিন্ন শাখার কর্মী। এর বন্ধের দিনগুলো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তায় থেকে বন্ধ সর্বাত্মক করার চেষ্টা করবে। এ প্রসঙ্গে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু’র রাজ্য সম্পাদক অনাদি সাহু জানান, আমরা রাজ্য, জেলা এবং ব্লকস্তরে স্ট্রাইক কমিটির তৈরি করে তাতে সাধারণ মানুষকে শামিল করার চেষ্টা করা হবে। এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীই বন্ধ সফল করতে রাস্তায় নামবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, যেহেতু বন্ধকে সমর্থন করছে কংগ্রেসও তাই তাদের বিভিন্ন শাখার কর্মীরাও এই কমিটিতে যুক্ত থাকবে। কিন্তু বহু সফল করতে হঠাৎই স্কোয়াড তৈরি করতে হচ্ছে কেন বামেদের? রাজনৈতিক মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, বিগত কয়েক বছর বেশ কয়েকবার ধর্মঘট ডেকেছে বামফ্রন্ট। কিন্তু সবগুলােই রাস্তায় নেমে ব্যর্থ করেছে জনগণ।
যার ফলে সংগঠন নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্বের মুখে পড়তে হয়েছে বিমানবাবুদের। এবার আবার একদিন নয়, পরপর দু’দিন ধর্মঘটের ডাক। যা কার্যত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, সামনেই ব্রিগেড, তারপর লােকসভা। ফলে ধর্মঘট ব্যর্থ হলে মুখ পুড়বে বামেদের। তাই ‘লেঠেল বাহিনী’ রাস্তায় নামিয়ে যেনতেন প্রকারে ধর্মঘট সফল করতে চাইছে বামেরা।




