তারাপীঠের পুণ্যার্থীদের জন্য সস্তায় কলকাতা-রামপুরহাট হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু হতে চলেছে। সপ্তাহে প্রতিদিন ১২আসনের হেলিকপ্টার সকালে যাত্রী নিয়ে কলকাতা থেকে রামপুরহাটে পৌঁছবে, বিকেলে যাত্রী নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে উড়ে যাবে। কোনও ধর্মীয় স্থানকে কেন্দ্র করে হেলিকপ্টার পরিষেবা রাজ্যে এই প্রথম। এই পরিষেবা চালু হলে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে সহজেই হেলিকপ্টারে আসা-যাওয়া করতে পারবেন ভক্তরা। হেলিপ্যাডের সামনেই গড়ে উঠেছে বিশালাকার সার্কিট হাউস, সেখানেও ভক্তদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পুণ্যার্থীরা যাতে রামপুরহাট থেকে নির্বিঘ্নে তারাপীঠ মন্দিরে যেতে পারেন সেজন্যবিশেষ রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(টিআরডিএ)।সাধক বামাখ্যাপার সাধনভূমি তারাপীঠকে কেন্দ্র করে নানা কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকী বিদেশ থেকেও ভক্তরা প্রতিদিন সেখানে ভিড় জমান। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাম আমলে সেভাবে মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়ন বা যাত্রী পরিষেবা নিয়ে চিন্তা করা হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় ভক্তদের আসতেও বিস্তর সমস্যা হতো। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর তারাপীঠ ও সংলগ্ন এলাকার উন্নয়নে গড়ে তোলেন তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি যাত্রী পরিষেবায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়। পরিবহণ দপ্তর তারাপীঠ-কলকাতা সরকারি বাস পরিষেবা চালু করে। তারাপীঠ থেকে ৬০নম্বর জাতীয় সড়কের উপর মুনসুবা মোড় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও পরে চার লেনের করা হয়। কিন্তু এবার হেলিকপ্টার পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই রামপুরহাটে হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পূর্ত দপ্তর কাজটি করছে, পরে তা পরিবহণ দপ্তরকে হস্তান্তর করবে। তবে কবে থেকে এই পরিষেবা চালু হবে এবং কত ভাড়া লাগবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যদিও অনুমান করা হচ্ছে, সাধারণ যাত্রীদের কথা ভেবে ভাড়া খুব বেশি রাখা হবে না।সম্প্রতি টিআরডিএ’র বৈঠকে দেখুড়িয়া মোড় ও বড়শালের গোপালপুর মোড় হয়ে তারাপীঠ-রামপুরহাটএকটি বিকল্প রাস্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জাতীয় সড়কের যানজট এড়িয়ে সহজেই পর্যটকরা তারাপীঠে পৌঁছে যাবেন। অন্যদিকে, বিকল্প রাস্তা প্রস্তুত হলে মন্দিরে উৎসবের দিনগুলিতে পুলিস সহজেই যান নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এই রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হলে হেলিকপ্টারে আসা যাত্রীদের পাশাপাশি ট্রেনে আসা পুণ্যার্থীদেরও মন্দিরে যাওয়া বিশেষ সুবিধা হবে। টিআরডিএ’র সিইও তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) উমাশঙ্কর এস বলেন, কপ্টার পরিষেবা চালুর জন্য পূর্ত দপ্তর হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ করছে। কাজ সম্পন্ন হলে হেলিপ্যাডটি পরিবহণ দপ্তরকে হস্তান্তর করবে। প্রতিদিনই কলকাতা থেকে রামপুরহাট এই পরিষেবা চালু থাকবে। কৃষিমন্ত্রী তথা টিআরডিএ’র চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইতিমধ্যেই মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বহু মানুষ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ১২ আসনের একটি হেলিকপ্টার থাকবে। রামপুরহাট-তারাপীঠ যোগাযোগ আরও উন্নত করার জন্য একটি বিকল্প রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।




